রাসুল (সা.) রমজান মাসে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তারা পরস্পর পরস্পরকে কোরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন। আমাদের পূর্বসূরি আলেমরাও রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতে বেশির ভাগ সময় কাটাতেন। রমজানে তাদের কোরআন তেলাওয়াত কেমন ছিল সে বিষয়ের বিবরণ তুলে ধরা হলো।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর কোরআন তেলাওয়াত : ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ছিলেন জনসাধারণের মধ্যে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। আলি ইবনে জায়েদ সাইদানি (রহ.) বলেন, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) রমজান মাসে ৬০ বার কোরআন খতম করতেন। দিনে এক খতম এবং রাতে এক খতম। -আততাদবিন ফি আখবারি কাজবিন ২/৩৩২
ইমাম মালেক (রহ.)-এর কোরআন তেলাওয়াত : ইবনে আবদুল হাকিম (রহ.) বলেন, রমজান মাস এলে ইমাম মালেক (রহ.) হাদিসের পাঠদান থেকে বিরত থাকতেন, আলেমদের সমাবেশ থেকে দূরে থাকতেন এবং কোরআন তেলাওয়াতে মশগুল হয়ে যেতেন। -লাতায়িফুল মাআরেফ ১/১৭১
প্রতি রাতে এক খতম : প্রথম দিকে ইমাম শাফেয়ি (রহ.) ইলম অর্জনে ব্যস্ত থাকার কারণে কোরআন তেলাওয়াত কম করতেন। তারপর জীবনের শেষ দিকে অধিক তেলাওয়াত করেছেন। রাবি (রহ.) বলেন, ইমাম শাফেয়ি (রহ.) প্রতি রাতে একবার করে কোরআন খতম দিতেন। -আল মুনতাজাম ফি তারিখিল মুলুক ওয়াল উমাম ১০/১৩৫
নফল ইবাদত ছেড়ে কোরআন তেলাওয়াত : সুফিয়ান সাওরি (রহ.) সম্পর্কে আবদুর রাজ্জাক (রহ.) বলেন, যখন রমজান আসত, তখন সুফিয়ান সাওরি (রহ.) সমস্ত নফল ইবাদত ছেড়ে দিতেন এবং কোরআন তেলাওয়াতে সর্বদা মশগুল থাকতেন। -লাতায়িফুল মাআরেফ ১/১৭১
রমজানে ১৭ বার কোরআন খতম : ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালেক (রহ.) ছিলেন বনু উমাইয়ার বিখ্যাত খলিফা। তার সম্পর্কে ইবরাহিম ইবনে আবু আবলা (রহ.) বলেন, ওয়ালিদ (রহ.) একদিন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কত দিনে কোরআন খতম করেন? উত্তরে বললাম, এত দিনে। অতঃপর তিনি বললেন, আমিরুল মুমিনিন ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও তিন দিনে একবার কোরআন খতম করতেন। তিনি রমজান মাসে ১৭ বার কোরআন খতম করতেন। -আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৯/১৮২
তিন দিনে কোরআন খতম : ইমাম বুখারি (রহ.)-এর রমজানের আমল বর্ণনা করতে গিয়ে ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, রমজানের প্রথম রাতে ইমাম বুখারি (রহ.) তার সঙ্গীদের একত্র করতেন এবং তাদের ইমামতি করতেন। প্রতি রাকাতে বিশ আয়াত তেলাওয়াত করতেন। কোরআন খতম না হওয়া পর্যন্ত এটাই ছিল তার আমল। তিনি সাহরির সময় পর্যন্ত কোরআনের অর্ধ থেকে এক-তৃতীয়াংশ তেলাওয়াত করতেন। এছাড়াও তিনি প্রতিদিন একবার করে কোরআন খতম করতেন। -ফাতহুল বারি ১/৪৮১
রমজানে ৯০ বার কোরআন খতম : মুহাম্মাদ বিন জুহাইর বিন কামির (রহ.) বলেন, আমার পিতা কোরআন খতম করার সময় রমজানে আমাদের সবাইকে একত্র করতেন। তিনি একদিনে তিনবার আর পুরো রমজান মাসে ৯০ বার কোরআন খতম করতেন। -(তারিখে বাগদাদ ৮/৪৮৫) ইমাম বাগভি (রহ.) মুহাম্মাদ বিন জুহাইর বিন কামির (রহ.) সম্পর্কে বলেন, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর পর আমি তার (মুহাম্মাদ বিন জুহাইর বিন কামির) চেয়ে উত্তম কাউকে দেখিনি। তিনি রমজানে ৯০ বার কোরআন খতম করতেন। -আল ইবার ফি খাবার মিন গাবার ১/৩৬৯
৩৩ বার কোরআন খতম : খলিফা মামুনুর রশিদ ছিলেন বিখ্যাত আব্বাসীয় খলিফাদের একজন। মহান আল্লাহ তাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সাহস ও হিম্মত দান করেছিলেন। তার সম্পর্কে বলা হয়, তিনি কোনো কোনো রমজানে ৩৩ বার কোরআন খতম করতেন। -তারিখুল খুলাফা লিল সুয়ুতি ১/২২৬
দৈনিক ৩ বার কোরআন খতম : আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল ফারগানি (রহ.) বলেন, আবুল আব্বাস ইবনে আতা (রহ.) আমাকে বলেছেন, হে আবু জাফর! বহু বছর ধরে আমি প্রতিদিন একবার করে কোরআন খতম করি। রমজানে আমি প্রতি দিন ও রাতে তিনবার কোরআন খতম করি। -সিফাতুল সাফওয়া
এক রাতে এক খতম : কাতাদাহ (রহ.) প্রতি সাত রাতে একবার করে কোরআন খতম করতেন। রমজান এলে তিনি প্রতি তিন রাতে একবার করে কোরআন খতম করতেন। রমজানের শেষ দশকে তিনি প্রতি রাতে একবার করে কোরআন খতম করতেন। -নিদায়ুর রাইয়ান ফি ফিকহিস সাওম ১/১৯৮
প্রতিদিন কোরআন খতম : শায়খুল হাদিস মাওলানা সলিমুল্লাহ খান (রহ.) ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের অন্যতম ছাত্র এবং শায়খুল ইসলাম মাওলানা সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর সুযোগ্য শিষ্য। তিনি রমজানে প্রতিদিন সম্পূর্ণ কোরআন খতম করতেন। মাওলানা উবায়দুল্লাহ খালিদ (রহ.) বলেন, রমজানে এই আমল এতটাই বেড়ে যেত যে, তিনি প্রতিদিন পুরো কোরআন খতম করতেন। -তাযকিরায়ে শায়খুল কুল ১৩২
