কেজরিওয়ালকে নিয়ে মন্তব্যে মার্কিন কূটনীতিককে তলব

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০৩:৪৬ এএম

ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে জার্মানির পর যুক্তরাষ্ট্রও মন্তব্য করেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ভারতে নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে তলব করেছে নয়াদিল্লি। গতকাল বুধবার তাকে নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাউথ ব্লকের দপ্তরে ডাকা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলে এ বৈঠক। এর আগে জার্মান কূটনীতিককেও ডাকা হয়েছিল।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কার্যকরী সহকারী প্রধান গ্লোরিয়া বারবেনাকে তলব করা হয়। নয়াদিল্লির তরফ থেকে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধির কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন নাক গলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ নিয়ে কোনো পক্ষের তরফ থেকেই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্য করে, তারা কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারকান্ডের ওপর নজর রাখছে। একই সঙ্গে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও অবাধ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ করে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই মন্তব্যের পরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি জারি করে। এতে বলা হয়, কূটনীতিতে আশা করা হয় যে, দেশগুলো অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ অখ-তার বিষয়ে শ্রদ্ধাশীল হবে। তা না হলে বাজে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

এর আগে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার নিয়ে ভারতে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক জর্জ এনজেওয়েলারকে তলব করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নয়াদিল্লি জার্মানির মন্তব্যকে ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে। ওই সময় জার্মানি মন্তব্য করে, তারা আশা করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মৌলিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্ত হবে।

এদিকে কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের পর আজ বৃহস্পতিবার আর্থিক তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হেফাজত শেষ হচ্ছে। এরপর তাকে হস্তান্তর করা হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) কাছে। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সিবিআই। তাকে গত ২১ মার্চ তার বাড়িতে গিয়ে গ্রেপ্তার করে ইডি। দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীকে সাত দিনের জন্য হেফাজতে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ইডিকে। আজ বৃহস্পতিবার সেই হেফাজতেরই মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে।

অন্যদিকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কেজরিওয়াল যে আবেদন দাখিল করেছিলেন, তার শুনানি পিছিয়ে যেতে পারে। কারণ এ মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের কাছে কিছুটা সময় চাইছে ইডি। ধারণা করা হচ্ছে, ইডি সময় চাওয়ায় দীর্ঘায়িত হবে কেজরিওয়ালের মামলার শুনানি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত