ফোরামের নির্দেশনা

সুপ্রিম কোর্ট বারে সভাপতিকে দায়িত্ব নিতে বারণ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০৩:৪৭ এএম

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিজয়ী সভাপতি ব্যারিস্টার এম. মাহবুব উদ্দিন খোকনকে দায়িত্ব গ্রহণে বিরত থাকতে বলেছে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের শীর্ষ সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে বিজয়ী তিনজনকে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি অর্থাৎ বারের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সভাপতিসহ চারজন নির্বাচিত হয়েছেন। তিন সদস্য হলেন মো. শফিকুল ইসলাম, ফাতিমা আক্তার ও সৈয়দ ফজলে এলাহী অভি।

গতকাল বুধবার আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ২৪ মার্চ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এক যৌথসভার বরাত দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এ নির্দেশনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ব্যারিস্টার খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের ফোরামের (জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম) একজন শক্তিশালী ও রহস্যময় নেতা ওই নির্বাচনে সরকারের মদদে ভোট ছাড়াই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ওয়াকওভার দিতে চেয়েছিলেন।’ তবে তিনি ‘প্রভাবশালী’ ও ‘রহস্যময়’ ওই নেতার নাম প্রকাশ করেননি।

এ সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন কি না, এমন প্রশ্নে আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট বারের পুনর্নির্বাচন চেয়েছে। আমারও একই দাবি। ভোট গণনার পরও আমি একই দাবি জানিয়েছিলাম। তবে দাবি যদি পূরণ নাও হয় আমি সভাপতি আছি। এটা তো (সভাপতি পদ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।’

গত ৬ ও ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বারের ভোটগ্রহণ শেষে ৯ মার্চ রাতে ফল ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি পদে মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক বিজয়ী হন। নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ চারটি সদস্য পদে বিএনপিপন্থিরা এবং সম্পাদক কোষাধ্যক্ষসহ ১০টি আওয়ামীপন্থিরা বিজয়ী হন। তবে নির্বাচন কেন্দ্র করে মারামারি, মামলা, গ্রেপ্তার রিমান্ডের মতো ঘটনা ঘটে। ফলাফলের গেজেট এখনো প্রকাশিত হয়নি। আগামী ২ এপ্রিল এ গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

চারজনকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘বিগত দুই বছরের মতো এবারের নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনরা নজিরবিহীনভাবে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি ও মনগড়া ফলাফল ঘোষণা করেছে। এমনকি সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগদলীয় দুজন প্রার্থী, প্রথমে নাহিদ সুলতানা যূথী ও পরে শাহ মঞ্জুরুল হককে তথাকথিত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।’

চিঠিতে বলা হয়, ক্ষমতাসীন দলের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা নির্বাচনের পরপরই সমিতির অডিটরিয়ামে হামলা চালিয়ে আইনজীবীদের মারধর ও ব্যালট পেপার ছিনতাই করে। ওই ঘটনা আওয়ামী লীগের দুজন সম্পাদক পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘটিত হলেও সরকারের একজন বেতনভুক্ত আইন কর্মকর্তা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ও আরও তিনজন আইনজীবী ফোরামের নেতাকে আসামি করে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করেন। এ মামলায় সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপিপন্থি ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তারা দুই সপ্তাহ কারাভোগ করেছেন। তাদের কারাগারে রেখে গত ১০ মার্চ লুট হয়ে যাওয়া ব্যালট পেপার গণনার নাটক সাজিয়ে তথাকথিত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন বিএনপিপন্থিদের জয় সুনিশ্চিত ছিল দাবি করে আইনজীবী ফোরামের চিঠিতে বলা হয়, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভোট-ডাকাতি জায়েজ করতে আপনাদের (বিএনপির বিজয়ী চারজন) নামকাওয়াস্তে বিজয়ী দেখানো হয়েছে।’ সভাপতি পদপ্রার্থী (মাহবুব উদ্দিন খোকন) পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে যৌথসভায় সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনের পর ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ন্যায়সংগত যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত