শেকৃবির সিরাজ-উদ-দৌলা হল পানিসংকটে ১২০০ শিক্ষার্থী

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪, ০৪:৪৪ এএম

দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যায় ভুগছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ বারবার আশ্বস্ত করলেও ৫ বছরে স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। ফলে ১০ তলাবিশিষ্ট আবাসিক হলটির ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে পড়তে হয় চরম সংকটে। আর রোজার সময় মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তাদের বিড়ম্বনা। এবারও একই সংকটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলটিতে মাঝেমধ্যেই ওয়াশরুমে পানি থাকে না, কখনো আবার খাবার পানি থাকে না। গোসলে গিয়ে আটকা পড়তে হয়, পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়ে। আবার একটু পানির দেখা মিললেও হঠাৎ নাই হয়ে যায়। শুক্রবার নামাজের আগে পানি থাকবে না এটাই যেন এখানকার নিয়ম। এই রমজান মাসেও দুই-এক দিন পরপরই সাহরি-ইফতারের সময় পানি থাকে না। শিক্ষার্থীরা ওয়াশরুম ও গোসল করার জন্য এক ব্লক থেকে অন্য ব্লকে ছোটাছুটি করেন পানির জন্য। রোজায় যেসব ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে, সেই সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আরও বেশি ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বারবার হল প্রভোস্টের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও তিনি আশ্বাস দিয়েই দায় শেষ করেন। স্থায়ী সমাধান করেননি কেউ। তিন মেয়াদে হলটির প্রভোস্টদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল হলের পানির সংকট সমাধান করা। তবে তাদের কেউই পানির সমস্যা সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এত এত প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, অথচ হলে পানির সংকটের মতো মৌলিক সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদাসীন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা বিভিন্ন সময় হলের এই পানি সমস্যার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখান। কখনো বলেন, পাইপের সমস্যা, পাইপ সংস্কার করা হচ্ছে। কখনো বলেন, লাইনে কাজ করা হচ্ছে। আবার কখনো বলেন, রিজার্ভ ট্যাংক ছোট। আবার কখনো বলেন, এই হল সাপ্লাই লাইন অনেক দূর এ রকম বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেন।

হলটিতে বসবাসরত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে হলে আছি, পানি না থাকার সমস্যার কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাঝে মাঝে ওয়াশরুমে আটকে যাই। অন্তত রোজার আগে এ বিষয়ে কর্র্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। পানি আমাদের জন্য মৌলিক চাহিদার মতো। সেটিকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বহুতল ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে যখন পানি থাকে না, তখন খুবই সমস্যায় পড়তে হয়।

২০১৩ সালে এইচ আকৃতির ১০তলা এই হলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রথম দফায় দোতলা ও ৫তলার কাজ শেষে হলটি চালু করা হয়। পরে ২০১৯ সাল থেকে ১০তলার দুটি ব্লকই শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু পানি সাপ্লাইয়ের লাইন ও রিজার্ভ ট্যাংক আগের মতোই থেকে যায়। সেই শুরু থেকেই হলে পানির সমস্যা। ২০১৯ সালে তৎকালীন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইছাক এবং পরবর্তী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে পানির সমস্যা সমাধানের কথা বললেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে চার-পাঁচ দিনও হলটিতে পানি না থাকার ঘটনা ঘটেছে। তখন ওয়াসা দিয়ে অল্প পরিমাণে পানি সরবরাহ করা হতো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওলীউল্লাহ বলেন, অনেক সময় পানি ছাড়তে একটু এদিক-সেদিক হলে একটু সমস্যা হয়, তা ছাড়া বড় কোনো সমস্যা নাই।

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মাসুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে এই হল আর টিএসসির মাঝে নতুন একটা রিজার্ভ ট্যাংকি ও পাইপ বসালে আর সমস্যাটা থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত