২০১৮ সালে দেশের ফুটবলের শীর্ষ স্তরে আসার পর থেকেই জয়যাত্রা চলছে বসুন্ধরা কিংসের। করোনা পরিত্যক্ত একটা লিগ ছাড়া চারটি লিগেই চ্যাম্পিয়ন কিংস। ওই চার লিগে লাল জার্সিধারীরা খেলেছেন ৯০টি ম্যাচ। চলতি লিগে গতকাল খেলল দশম ম্যাচ। ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৭-১ গোলে বড় জয় দিয়ে মাইলফলকের ম্যাচটা রাঙিয়েছে চ্যাম্পিয়নরা। চলতি লিগে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।
শুরু থেকে ব্রাদার্সকে চেপে ধরে প্রথমার্ধে ৪-১ গোলের লিড নিয়েছিল কিংস। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ব্রাদার্স। দাপুটে জয়ে পয়েন্ট টেবিলে আরও এগিয়ে গেল টানা চারবারের লিগ জয়ী কিংস। ড্র দিয়ে লিগের প্রথমপর্ব শেষ করেছিল কিংস। জয়ে ফিরে ১০ ম্যাচে ২৫ পয়েন্টে মোহামেডানের সঙ্গে ব্যবধানটা আগের মতোই পাঁচে নিয়ে গেল অস্কার ব্রুজনের শিষ্যরা। অন্যদিকে মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাদার্সকে থাকতে হচ্ছে তলানিতেই।
কিংসের গোলৎসবের ম্যাচে অবশ্য শুরুটা ভালো হতে পারত ব্রাদার্সের। অষ্টম মিনিটে ববুরবেকের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে উঠেছিলেন নয়া গাম্বিয়ান রিক্রুট জ্যালো ইয়ানকুবা। বক্সে ঢুকে পড়ে আনিসুর রহমান জিকোকে কাটিয়ে এই ফরোয়ার্ডের শট রিমন হোসেন শেষ মুহূর্তের গোললাইন থেকে কোনোমতে ফিরিয়ে দেন। এরপরেই খোলস ছেড়ে বের হয়ে এসে কিংস খেলেছে নিজেদের মতো করে দাপুটে ফুটবল। ১৯ মিনিটে কিংসকে প্রথম এগিয়ে নেন সাদ উদ্দিন। মিগেল ফিগেইরার ফ্রি কিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান সাদ। ৩০ মিনিটে মিগেলের আরেকটি অ্যাসিস্টে গোলে পরিণত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কিংস অধিনায়ক রবসন রবিনহো। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে মিগেল ৩-০ করেন দুই সতীর্থের অসাধারণ সেট আপে। ডান দিক থেকে রিমন হোসেনের কাট ব্যাকে রবিনহো ডামি করলে বল পেয়ে যান মিগেল। ঠা-া মাথায় নিখুঁত প্লেসিংয়ে ব্রাদার্সের হতাশা বাড়ান এই ব্রাজিলিয়ান। এর চার মিনিট পর রবিনহোর কাটব্যাকে আনমার্কড এমফন উদোহ সহজেই গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অবশ্য ব্রাদার্স এক গোল শোধ করে। মধ্যবর্তী দলবদলে ব্রাদার্সে যোগ দেওয়া নাগরিকত্ব বদলে বাংলাদেশি বনে যাওয়া ফরোয়ার্ড এলিটা কিংসলে মাহবুবুর রহমান সুফিলের ক্রসে হেড করে আনিসুর রহমান জিকোকে পরাস্ত করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের গোল উৎসব করে কিংস। এবার ডান দিক থেকে বদলি মোহাম্মদ ইব্রাহিমের আড়াআড়ি ক্রসে পা ছোঁয়ানোর আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন আনমার্কড সোহেল রানা জুনিয়র। ৫৮ মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয় ও লিগে পঞ্চম গোলের দেখা পান মিগেল। এমফন উদোহর শট পোস্টে লেগে ফিরলে ফিরতি বল সহজেই জালে জড়ান দারুণ ফর্মে থাকা মিগেল। এর কিছু বাদেই দ্বিতীয় গোল করে এই মৌসুমে কিংসের হয়ে শুরুটা স্মরণীয় করে উদোহ।
প্রথমপর্বের দেখায় রহমতগঞ্জের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল আবাহনী। এবার অবশ্য জয় দিয়ে দ্বিতীয়পর্ব শুরু করেছে ডিয়েগো ক্রুসিয়ানির শিষ্যরা। লিগে এটা আবাহনীর পঞ্চম জয়। ১০ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ছয়বারের লিগজয়ীরা আছে তিনে। শীর্ষে থাকা কিংসের চেয়ে ১০ পয়েন্ট ও দুইয়ে থাকা মোহামেডানের চেয়ে আবাহনী ২ পয়েন্টে পিছিয়ে। অন্যদিকে প্রথমপর্বের প্রথম সাত ম্যাচ ড্র করা রহমতগঞ্জকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ধুঁকতে হচ্ছে নবম স্থানে।
স্কোরলাইন ৩-০ হলেও ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। বরং এই অর্ধে গোল পেতে পারত রহমতগঞ্জ। ৪৪ মিনিটে আবাহনীর গোলকিপার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বল ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি। গোলমুখী বলটা অবশ্য গোললাইন পেরুনোর আগে এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য লিড নেয় আবাহনী। সেন্ট ভিনসেন্টের ফরোয়ার্ড কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্টের কাটব্যাক নিয়ন্ত্রণে চকিতে ঘুরে অসাধারণ প্লেসিংয়ে গোল করেন দলটির ব্রাজিলিয়ান মার্কসম্যান ওয়াশিংটন ব্রান্দাও। ৫৮ মিনিটে অসাধারণ ফ্রি-কিকে কর্নেলিয়াসকে বলের যোগান দিয়ে আবাহনীর অভিষেক রাঙান জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। তার ফ্রি-কিক রহমতগঞ্জে কিপার ঠিকমতো ক্লিয়অর করতে পারেননি, সেটা পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি কর্নেলিয়াস। ৬৩ মিনিটে ৩-০ করেন ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার জোনাথন ফার্নান্দেজ। কর্নেলিয়াসের অ্যাসিস্টে মাপা প্লেসিংয়ে আবাহনীকে দ্বিতীয়পর্বে দেন শুভ সূচনা।
