রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উর্দি আর গাউনের মাঝে শাহবাজ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৫ এএম

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিচারব্যবস্থার বিবাদ নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে নানা আলোচনা চলছে যা সদ্য ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের জন্য অস্বস্তিকর। রাজনীতিতে প্রভাবশালী শরিফ পরিবারের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজের (পিএমএল-এন) সঙ্গে ক্ষমতাকাঠামোর মূল ‘ক্রীড়নক’ সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক মধুচন্দ্রিমার মধ্যে উদয় হলো এই পরিস্থিতির। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারপতি চিঠি লিখে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ এনেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি তাসাদ্দুক হোসাইন জিলানিকে প্রধান করে তদন্ত কমিশন গঠন করেছে সরকার। কিন্তু এই কমিশন প্রত্যাখ্যান করে গতকাল রবিবার ৩০০ আইনজীবী একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি তাসাদ্দুক হোসেন জিলানিকে প্রধান করে কমিশন অনুমোদন করেছে। এই কমিশন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। কিন্তু পাকিস্তানের তিন শতাধিক আইনজীবী শাহবাজ সরকারের ওই তদন্ত কমিশনের সমালোচনায় সরব হয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শীর্ষ আদালত যেন সংবিধানের আলোকে নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলে শীর্ষ আদালতই তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। 

আইনজীবীদের বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘আমরা ছয়জন সাহসী বিচারপতির পাশে রয়েছি। নির্বাহী বিভাগের দ্বারা বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ এবং ঘটনা তদন্তে সরকারের গঠিত কমিটির কাছে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের নতি স্বীকারের নিন্দা জানাই আমরা।’

ছয় বিচারপতি গত ২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইসাকে লেখা এক চিঠিতে অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) রাজনৈতিক মামলার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। ওই চিঠির প্রতিক্রিয়ায় প্রধান বিচারপতিও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। নির্বাহী বিভাগের অংশ সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার এই ধরনের চাপ সহ্য করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ভুট্টো পরিবারের দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং আরও কয়েকটি দলের সহযোগিতায় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কারাবন্দি রেখে আয়োজিত নির্বাচনটি শরিফ পরিবার ও দেশের প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর ‘নতুন বোঝাপড়া’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী ও তার গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব নতুন কোনো আলোচনা নয়। তবে এ নিয়ে বিচারকদের সর্বশেষ উদ্বেগ প্রকাশ বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

উর্দিধারী জেনারেল, বিচারালয়ের কালো গাউনের মধ্যখানে চাপে পড়েছে শাহবাজ সরকার। এবার সামরিক বাহিনীর ছায়াতলে থেকে ক্ষমতায় এলেও পিএমএল-এন নেতৃত্ব অভিযোগ করে থাকে, নওয়াজ শরিফকে ২০১৭ সালে অযোগ্য ঘোষণার মূলে কাজ করেছে আইএসআই। তবে এবার ক্ষমতায় আসার পথে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পিএমএল-এন নেতৃত্বের বোঝাপড়া শুরু থেকেই জোরালো ছিল। পক্ষান্তরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কারাগারে বন্দি রেখে নির্বাচনের আগে কয়েকটি মামলায় টানা সাজা ঘোষণা করার ক্ষেত্রেও সামরিক বাহিনীর প্রভাব কাজ করেছিল বলে মনে করা হয়। কারণ নিম্ন আদালতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত রয়েছে পাকিস্তানে।

ছয় বিচারপতির চিঠিতে উঠে এসেছে ইমরানের মামলার প্রসঙ্গও। বিচারপতিরা উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক মামলা গ্রহণের বিরুদ্ধে গত বছর সিদ্ধান্ত দেওয়া দুই বিচারপতিকে নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের মাধ্যমে ভয় দেখিয়েছেন আইএসআই কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত