শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিষণ্ণতা থেকে মুক্তির উপায়

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ১১:০৭ পিএম

বিষণ্ণতা একটি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা। পৃথিবীর প্রায় মানুষ কমবেশি বিষণ্ণতায় ভোগে। মানুষের মনের অবস্থা সময় ভেদে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এই ভালো, আবার এই খারাপ। এখন প্রফুল্ল তো পরক্ষণেই বিষণ্ণ। আমাদের প্রায় সবারই মন খারাপ হয়। আবার দৈনন্দিন জীবনের নানাবিধ ব্যস্ততায় আমরা সেগুলো ভুলেও যাই। কিন্তু আমাদের মধ্যেই এক ধরনের মানুষ আছে, যারা মন খারাপ হলে সহজে সেখান থেকে বের হতে পারে না। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তারা মন খারাপ নিয়েই চুপচাপ বসে থাকে। এই একটু মন খারাপই আস্তে আস্তে বড় বিষণ্ণতার রূপ নেয়। যা ব্যক্তিকে মানসিক রোগীতে পরিণত করে এবং আত্মহত্যার মতো জঘন্য কাজের দিকে নিয়ে যায়।

পার্থিব জীবনে বিষণ্ণতা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। পরকালের ব্যাপারে উদাসীন, আল্লাহ বিমুখতা এবং দুনিয়ার প্রতি অধিক ঝোঁক আমাদের বিষণ্ণতার প্রধান কারণ। কেননা মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘যে আল্লাহর প্রতি ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ -(সুরা তালাক, আয়াত ৩) সুতরাং হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

মানব জীবনে বিপদ-আপদের সম্মুখীন হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।’ -(সুরা তাগাবুন ১১)

এছাড়াও সুরা বাকারার ১৫৬ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী তারা যেকোনো বিপদ-আপদের সময় এই সত্য ও বাস্তবতার প্রতি মনোযোগ আকৃষ্ট করে বলে যে, আমরা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।’ পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি এক আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর ইমান আনবে এবং সৎকাজ করবে নিঃসন্দেহে তার কোনো ভয় নেই।’ এর দ্বারা স্পষ্টই বোঝা যায়, দুনিয়ার যেকোনো বিপদ-আপদের সম্মুখীন হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে মহান আল্লাহর দিকে। একমাত্র তিনিই আমাদের বিপদ থেকে প্রকৃত উদ্ধারকারী। সব কল্যাণ একমাত্র তার হাতেই নিহিত। সুতরাং অযথাই বিষণ্ণ ও হতাশ হওয়ার কোনো মানে হয় না। তবুও যদি কোনো বিপদ-আপদ আমাদের কোনোরূপ বিষণ্ণতায় নিপতিত করে তাহলে আমরা কী করব? বিষণ্ণতা, মন খারাপ ও হতাশা থেকে মুক্তি পেতে আমরা যা কিছু করতে পারি, তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী উদ্যোগ হলো মহান আল্লাহর জিকির (স্মরণ) করা এবং সালাতের মাধ্যমে তার কাছে সাহায্য চাওয়া। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, যারা ইমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো! শুধু আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্ত হয়।’ -(সুরা রাদ, আয়াত ২৮)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘তোমরা নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আমার বাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সেসব বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।’ -(সুরা বাকারা, আয়াত ৪৫) ‘হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজ আদায় করতেন।’ -(সুনানে আবু দাউদ) সাহাবায়ে কেরামও এ আমলে অভ্যস্ত ছিলেন। ছোট থেকে ছোট বিষয়ের জন্যও তারা নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।

মানসিকভাবে বিষণ্ণ হলে হজরত রাসুল (সা.) পড়তেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে রহমত (মনের প্রশান্তি) কামনা করছি। কাজেই আমাকে এক পলকের জন্যও আমার নিজের কাছে সোপর্দ করবেন না এবং আমার সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে দিন। আর আপনিই একমাত্র ইলাহ।’ -(আবু দাঊদ ৫০৯০)

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত