রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চর্চা করো মুক্তগদ্য লেখার

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৪ এএম

মুক্তগদ্য হলো লেখকের একান্ত আবেগের লিখিত রূপ। ক্ষণিকের চিন্তা, দৈনন্দিন জীবনযাপনের কোনো বিশেষ ঘটনা, কোনো পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি লেখক যখন তার নিজের ঢঙে লিখে রাখেন সেটিকেই আমরা সাধারণ ভাষায় বলতে পাড়ি মুক্তগদ্য। সামাজিক মাধ্যমে মাঝারি আকারের যে স্যাটাসগুলো লেখা হয় সেটিও মুক্তগদ্যের অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসার আগে দিনলিপি লেখার অনুশীলনকে মুক্তগদ্যের চর্চার উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়। মুক্তগদ্যের লেখার অনুশীলনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ভাষার ওপর দক্ষ হয়ে ওঠেন। একজন শিক্ষার্থী মুক্তগদ্য লেখার অনুশীলন থেকে নানাভাবে লাভবান হতে পারে। এখনকার শিক্ষাক্রমে মুখস্থ করে প্রশ্নের উত্তর লেখার থেকে ওই বিষয়ে শিক্ষার্থীর মৌলিক চিন্তা করার প্রচেষ্টা এবং তাকে নিজের ভাষায় প্রকাশকে বেশি উৎসাহিত করা হয়। মুক্তগদ্যের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর নিজের ভাষায় লেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

মুক্তগদ্যে বিষয়ের উপস্থাপনা, চিন্তার ধারাবাহিকতা, সংযত বর্ণনা, ভাষার প্রাঞ্জলতা ও যুক্তির সুশৃঙ্খল প্রয়োগ থাকে। মুক্তগদ্য লিখন একটি সৃজনশীল বিষয়। লেখকের চিন্তা, কল্পনা ও বুদ্ধির মিলিত প্রয়াসে একটি মুক্তগদ্য উৎকৃষ্ট হয়ে ওঠে। কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে মুক্তগদ্য সুপাঠ্য হয়ে ওঠে। 

বর্ণনামূলক মুক্তগদ্যে দৃশ্য, চরিত্র, স্থান, চারপাশের পরিবেশ ইত্যাদির বর্ণনা মাধ্যমে ঘটনাস্থলকে মূর্ত করে তুলতে হবে।

মুক্তগদ্য লেখার আগে যে বিষয়ের ওপর লিখছ সে বিষয়টি কতটুকু পরিসর ও সময়সীমা দাবি করে তা নির্ধারণ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও বেশি মনোযোগ দাবি করে এমন বিষয়ের জন্য দীর্ঘ মুক্তগদ্য ও সাধারণ বিষয়ের জন্য সংক্ষিপ্ত পরিসরে মুক্তগদ্য লেখা উচিত। অনাকর্ষণীয় ও অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দীর্ঘ লেখা লিখলে পাঠকের ধৈর্যের বিচ্যুতি ঘটবে। লেখা অহেতুক দীর্ঘ করা উচিত নয়।

মুক্তগদ্য লেখার সময় ঘটনা পরস্পরা বা ধারাবাহিকতার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। চিন্তা ও তার প্রকাশ যেন এলোমেলো বা অসামঞ্জস্য না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মুক্তগদ্যের ভাষা সহজ এবং প্রাঞ্জল হওয়া বাঞ্চনীয়। সন্ধি, সমাসবদ্ধ পদ, অপরিচিত বা অপ্রচলিত শব্দ যথাসম্ভব পরিহার করা ভালো। বাগাড়ম্বর বা অলংকারবহুল শব্দ ব্যবহার করা হলে অনেক সময় বিষয়টি জটিল ও দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে।

লেখার জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতি। লেখার প্রধানতম প্রস্তুতি হলো পড়া। না পড়লে লেখার গঠন, ভাষারীতি, উপস্থাপনের কৌশল প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যায় না। না পড়লে শব্দভা-ার বৃদ্ধি পায় না। শুধু পাঠ্যবই নয়, পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন সাহিত্য রচনা, সংবাদপত্র, পাক্ষিক-ষাণ¥াসিক, বাৎসরিক ম্যাগাজিন, সাহিত্য পত্রিকা প্রভৃতি পড়ার অভ্যাস করতে হবে।

লেখায় যেন সাধু ও চলিতের মিশ্রণ না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মুক্তগদ্যে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য, উদ্ধৃতি ব্যবহার করা উচতি নয়। তবে লেখার স্বার্থে প্রাসঙ্গিক উক্তি ও তথ্য ব্যবহার করা যাবে।

নিজের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, চিন্তাশক্তি, আবেগ-অনুভবের সুষম প্রয়োগ মুক্তগদ্যকে বিশিষ্টতা দান করে।

এই ছুটিতেই শুরু করে দাও মুক্তগদ্য লেখার চর্চা। ঈদের এই ছুটিতে কী কী করছ, কোথায় কোথায় গেলে সেসব লিখে রাখতে পারো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা তোমার নিজের লেখার খাতায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত