সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জাহাজ পরিচালনায় খরচ বাড়ছে

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৭ এএম

ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথের সব রুটে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজে আর্মস গার্ড নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ রুটে আগে থেকেই আর্মস গার্ড নেওয়ার কথা ছিল। এতদিন কেউ নিত আবার কেউ নিত না। কিন্তু এমভি আবদুল্লাহর ঘটনার পর থেকে সব জাহাজে আর্মস গার্ড নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জলদস্যু ঝুঁকি এড়াতে ভারত মহাসাগরসহ বেশকটি সামুদ্রিক রুটে আর্মস গার্ড নেওয়ায় জাহাজ পরিচালন খরচ বাড়বে। এতে রাউন্ড দ্য ট্রিপে সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ করতে হবে।

নেভাল সেক্টরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক রুটে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সিকিউরিটি বাহিনী থেকে আর্মস গার্ড নিতে হয়। আর আন্তর্জাতিক এ সিকিউরিটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি। লোহিত সাগরে হুতিদের আক্রমণের পর থেকে আর্মস গার্ডের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। ভারত মহাসাগরে আফ্রিকার পূর্ব উপকূল হয়ে উত্তমাশা অন্তরীপ দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলের সামুদ্রিক রুট এবং লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল দিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের সামুদ্রিক রুটে এখন আর্মস গার্ড নিয়োগের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।

জাহাজের ভাড়া যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে দিন শেষে তা পণ্যের মাধ্যমে ভোক্তার ওপর গিয়ে বর্তাবে জানিয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আমাদের আমদানি বাণিজ্যের ৮ শতাংশ এসে থাকে। আর এসব পণ্যের মধ্যে গম, চিনিসহ কিছু ভোগ্যপণ্য এবং ওষুধ ও রাসায়নিক উপাদানসহ কিছু বিলাসদ্রব্য রয়েছে। এখন যদি সব জাহাজে আর্মস গার্ড নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই এর খরচ ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাবে।’

আর্মস গার্ড নিলে কী পরিমাণ বাড়তি খরচ হয় এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ বলেন, ‘সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ লাগতে পারে।’

তবে কোন জাহাজে আর্মস গার্ড আছে আর কোন জাহাজে নেই এ তথ্য দস্যুদের কাছে চলে যাওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নবোধক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব রহমান। তিনি বলেন, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে আর্মস গার্ড ছিল না কিন্তু জাহাজটি উপকূল থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। এ জাহাজের আশপাশে আরও জাহাজ ছিল, সেসব জাহাজে দস্যুরা হামলা চালায়নি। কিন্তু আবদুল্লাহতে হামলা চালিয়েছে, তা একটু প্রশ্নবোধক বটে।

তবে জাহাজে নিরাপত্তার খাতিরে যদি আর্মস গার্ড নিতে হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই খরচ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ। তিনি বলেন, ‘যদি আর্মস গার্ড না নেওয়া হয় তাহলে তো আবার এমভি আবদুল্লাহর মতো জিম্মি করলে জাহাজ, জাহাজের পণ্য ও নাবিকরা জিম্মি হয়ে যেতে পারে। তখন খরচ যেমন বাড়বে, ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।’

এদিকে এমভি আবদুল্লাহর মুক্তির বিষয়েও এখনো কোনো সুখবর পাওয়া যায়নি। তবে একটি সুখবর হলো, নাবিকদের কেবিনে থাকতে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে জাহাজের ওয়্যারলেস সেটের মাধ্যমে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছে।

গত ১২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগর থেকে এমভি আবদুল্লাহকে জিম্মির পর ২০ মার্চ দস্যুদের কাছ থেকে প্রথম ফোন আসে। আর এরপর থেকে দস্যুদের সঙ্গে মালিকপক্ষের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও মালিকপক্ষ সরাসরি তা অস্বীকার করে আসছে।

জাহাজের মালিক কেএসআরএমের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি অনেক। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। মুক্তি-পরবর্তীতে নাবিকদের তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে।’

জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাচ্ছিল। আর যাওয়ার পথে সোমালিয়ান উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে ভারত মহাসাগরে জাহাজটি সোমালিয়ান দস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। পরে দস্যুরা নাবিকদের জিম্মি করে তাদের ঘাঁটি গ্যারাকাদে নিয়ে যায়। এখনো তাদের আস্তানায় রয়েছে জাহাজ ও নাবিকরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত