বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সচিবের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪৩ এএম

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বর্তমানে সচিব এবং চেয়ারম্যানের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল ১ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিভাগের উপসচিব শাহীনুর ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়, প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে উপর্যুক্ত কর্মকর্তা দ্বারা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তপূর্বক সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এই আদেশের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলাবিষয়ক শাখার উপসচিব শাহীনুর ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে এই আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ড. মাহফুজুর রহমানের কাছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘চিঠির কপি এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। তাই চিঠির বিষয়ে বলতে পারব না।’

আপনি কি কোনো অভিযোগ করেছিলেন প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে? এই প্রশ্নের জবাবে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘না, আমি কোনো অভিযোগ করিনি। তবে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মামলার পর এটা নিয়ে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে মামলা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। একই সঙ্গে মামলার বিষয়টি আমি পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কেন মামলায় জড়ানো হলো?’

সাইবার ক্রাইমে কাউন্টার টেররিজমে নারায়ণ চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী নাথ বাদী হয়ে যে মামলা করেছিলেন, সেই মামলায় অন্য আসামি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল আলীম। মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই তদন্ত কমিটিতে আইটি বিষয়ে একজন দক্ষ প্রতিনিধি থাকা আবশ্যক। যিনি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল তৈরির বিষয়টি সহজে অনুধাবন করতে পারবেন। একই সঙ্গে এই কাজ করতে গিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কাছ থেকে প্রচুর লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন হবে। যিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন, তদন্তও তার বিরুদ্ধে হচ্ছে। তাই সব তথ্য সঠিকভাবে পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে আমি সংশয় প্রকাশ করছি।’

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বর্তমানে সচিব এবং চেয়ারম্যানের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। শুধু বাংলা বিষয় ছাড়া সব বিষয়ে তিনি জিপিএ ৫ পান। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে জিপিএ ৫ পাওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে তিনি জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলায় জিপিএ ৫ না পাওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে বোর্ডের নিয়মানুযায়ী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে গেলে দেখেন কে বা কারা আগে থেকে সব বিষয়ের জন্য আবেদন করে রেখেছেন। এতে নিজের সন্তানের জন্য শঙ্কিত হয়ে ছেলের পক্ষে তার মা বনশ্রী নাথ পাঁচলাইশ থানায় গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে জিডি করেন। সেই জিডিতে কে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন তা বের করার আবেদন জানানো হয়। পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায় পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে রেফারেন্স মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল আলীমের মোবাইল নম্বর। এ ঘটনায় প্রফেসর আবদুল আলীমকে পুলিশ ডেকেছিল। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘কে বা কারা আমার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করেছেন আমি জানি না।’

উপরন্তু তিনি এতে প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথকে দায়ী করে পাল্টা আরেকটি জিডি করেছিলেন কোতোয়ালি থানায়। পরে পুলিশ জিডির রিপোর্ট সাবমিট করার পর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে মামলা করেন বনশ্রী নাথ। আর এতে আবদুল আলীম ও ইদ্রিস আলীকে আসামি করা হয়। এর আগে নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল যাতে পুনর্নিরীক্ষণ না হয়, সেই নির্দেশনা দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মুজিবর রহমান। তিনি বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্টকে চিরকুটের মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীর পুনর্নিরীক্ষণ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত