অ্যামাজান বন উজাড়ে ক্রমবর্ধমান হার চরম উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটি এবং ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (ডাব্লিউআরআই) যৌথভাবে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হচ্ছে, গত বছর ৩৭ হাজার বর্গকিলোমিটার রেইনফরেস্ট উজাড় হয়েছে যা সুইজারল্যান্ডের সমান। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ১০টি ফুটবল মাঠের সমান বন উজাড় হয়েছে।
গবেষণাপত্রে বলা হয়, পৃথিবীব্যাপী কৃষিকাজের জন্য বন উজাড় করে জমি প্রস্তুত করাই রেইনফরেস্ট ধ্বংসের প্রধান কারণ। ইতিবাচক দিক হলো, ব্রাজিলে বন উজাড়ের ঘটনা ৩৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং কলম্বিয়ায় ৪৯ শতাংশ। তবে এই দুই দেশের উল্টোদিকে বলিভিয়া, লাওস, নিকারাগুয়া ও অন্যান্য দেশে বন উজাড় অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি বজায় রেখেছে। এ ছাড়া কানাডা দাবানলের কারণে রেকর্ড পরিমাণ বন হারিয়েছে।
ডাব্লিউআরআইয়ের অধীন গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের পরিচালক মিকায়েলা ওয়েসি বলেন, ‘গত বছর বন ধ্বংসের পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে বিশ্ব দুই ধাপ এগিয়ে যেতে গিয়ে, দুই ধাপ পিছিয়েছে। ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার অ্যামাজান হ্রাসের চিত্র দেখায় যে, উন্নতি সম্ভব। তবে অন্যান্য জায়গায় বন উজাড়ের বৃদ্ধি সামগ্রিক উন্নতির প্রেক্ষাপটকে প্রত্যাঘাত করেছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বন উজাড় ও পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপ প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বিশ্ব এদিকে প্রয়োজন মাফিক নজর দিচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ যথেষ্ট হচ্ছে না। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কর্মকা-ে লাগাম পরানো যাচ্ছে না।
বিশ্বব্যাপী গবেষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘কার্বন মেজরস ডাটাবেজ’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, বিশে^ তেল, গ্যাস, কয়লা ও সিমেন্ট উৎপাদনে নিয়োজিত ৫৭টি কোম্পানি ২০১৬ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরের পর পৃথিবীতে ৮০ শতাংশ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনে অবদান রেখেছে।
গবেষণাপত্রে বলা হয়, ৫৭টি কোম্পানির মধ্যে যেমন সরকার-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি রয়েছে, তেমনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। বিশে^র সরকারগুলো প্যারিস জলবায়ু চুক্তির শর্ত পূরণ করছে না। চুক্তি সইয়ের পর ১২২টি বড় বড় দূষণকারী গোষ্ঠীর মধ্যে ৬৫ শতাংশ রাষ্ট্রীয় ও ৫৫ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন বাড়িয়েছে।
