শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো, যা শিক্ষার্থী শিখল সেটি নিজের ভাষায় প্রকাশ করা। এ কারণেই সম্ভবত সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমকে লেখাপড়া বা পড়ালেখা বলা হয়। নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হয় বাকপটুতা এবং লেখার দক্ষতা। লেখার দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন। আর তার জন্য প্রয়োজন লিখতে শুরু করা। লিখেছেন এনাম-উজ-জামান
গ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত বইপড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পঠিত তথ্যকে আত্মস্থ করতে প্রয়োজন নিয়মিত লেখা। নিয়মিত লেখার জন্য কয়েকটি অভ্যাস আয়ত্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
শুরু করো মুক্তগদ্য দিয়ে : লেখালেখির অনুশীলনের শুরুটা হতে পারে মুক্তগদ্য লেখার মাধ্যমে। ঠিক যেমনভাবে দিনলিপি বা ডায়েরি লেখা হয়। সারা দিনে কী করলে, আগামীকাল কী করবে, কোনো বিশেষ ঘটনা যা তোমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, এমন বিষয় নিয়ে যা মনে আসে লিখতে শুরু করো। লিখতে পারো পোষা প্রাণী, তোমাদের বাড়ি, বন্ধু বা আত্মীয় সম্পর্কে। লেখার সময় পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করার চেষ্টা করো। এটি তোমার বর্ণনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
নির্দিষ্ট খাতা : লেখার অনুশীলনের জন্য একটি নির্দিষ্ট খাতা ব্যবহারের চেষ্টা করো। তাহলে তোমার লেখাগুলো একই খাতায় থাকবে এবং সহজে পাওয়া যাবে। একেকদিন একেক কাগজে লিখলে তা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তা ছাড়া কোন কাগজে লিখবে তা খুঁজতে ও ঠিক করতেও কিছু সময় নষ্ট হবে। লেখার খাতা থাকার একটি উপকারিতা হলো, খাতাটি শেষ হলে যখন তুমি আবার এর প্রথম পাতা উল্টাবে তখন নিজেই নিজের লেখার উন্নতি সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারবে।
নির্দিষ্ট বিষয় : বেশ কয়েক দিন নিয়মিত মুক্তগদ্য লিখলে নিজেই বুঝতে পারবে কোন বিষয়ে লিখতে তোমার ভালো লাগছে। তখন সেই বিষয় সম্পর্কে পড়াশোনা বাড়িয়ে দাও। অর্জিত জ্ঞান লেখার মাধ্যমে ভাগ করে নাও সবার সঙ্গে। কিন্তু সবসময় নিজের পছন্দের বিষয়ে লেখার সুযোগ নাও আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে লিখতে শুরু করার আগে লেখার বিষয়টি নির্দিষ্ট করে নাও। এখন ইন্টারনেটের যুগে, যে কোনো বিষয়ে তথ্য জানার বিস্তর সুযোগ রয়েছে। লিখতে শুরু করার আগে ওই বিষয়ে যতটুকু সম্ভব তথ্য জেনে নাও। তারপর নিজের অভিজ্ঞতার অংশটুকু যোগ করে লিখতে শুরু করো।
পর্যবেক্ষণ : একজন লেখকের অন্যতম হাতিয়ার হলো তার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। চারপাশের মানুষের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, ভালো লাগা-মন্দ লাগা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের আচরণ, সবকিছুই লেখকের পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে। তোমার পছন্দের বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিষয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখো। বইয়ে পড়া এবং ইন্টারনেটে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে তোমার পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে দেখো, দেখতে পাবে তুমি যেন একটি নতুন জগতের আবিষ্কার করতে পারছ, যা হয়তো তোমার পাশের লোকটিও জানে না।
নির্দিষ্ট সময় : লেখাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হলে নিয়মিত লিখতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় রুটিনে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়কে লেখার জন্য বরাদ্দ করলে। প্রতিদিন ওই নির্দিষ্ট সময়ে লিখতে বসবে। লেখা হোক বা না হোক ওই সময়ে লেখার সরঞ্জাম নিয়ে লিখতে বসবে। চেষ্টা করবে ওই সময়ে অন্য কিছুই না করতে।
যুক্ত হও কোনো লেখক ফোরামে : যে কোনো কাজ একা করা যত কষ্টকর দলের সঙ্গে তত দুরূহ মনে হয় না। একা একা প্রতিদিন নিবিষ্ট মনে লেখা যতখানি কষ্টকর নিজেকে কোনো একটি লেখক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত করলে দেখবে লেখালেখি আর ততটা কষ্টকর মনে হচ্ছে না। এই ফোরামগুলোতে লেখকদের নির্দিষ্ট বিষয় দিয়ে দেওয়া হয়। কে কী লিখলেন তা পড়ে শোনানো হয়, লেখার নানা রকম সমালোচনা করা হয়। এতে একজন নবীন লেখক উপকৃত হন। তা ছাড়া লেখক ফোরামগুলো লেখকদের প্রশিক্ষণের জন্য নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন করে থাকে।
