হামাসের সাথে জিম্মি চুক্তির দাবিতে লাখো ইসরায়েলির বিক্ষোভ

  • বিক্ষোভকারীরা ‘এখনই নির্বাচন’ এবং 'ইলাদ, আমরা দুঃখিত’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলো
  • আয়োজনকারীরা জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের প্রায় ৫০টি স্থানে সমাবেশ করেছে
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫৩ এএম

গাজায় জিম্মি চুক্তির দাবিতে অন্তত এক লাখ মানুষ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে বলে দাবি করেছে বিরোধীরা।

হামাসের হাতে জিম্মি ইলাদ কাতজিরের মৃতদেহ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী উদ্ধারের পর তেল আবিব ও অন্যান্য শহরে সমাবেশ শুরু হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ‘এখনই নির্বাচন’ এবং 'ইলাদ, আমরা দুঃখিত’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলো। পরে পুলিশ জোরপূর্বক তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গাজায় যারা জিম্মি হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। বিক্ষোভকারীরা হামাস এবং তার সহযোগীদের কাছে গাজায় জিম্মি থাকা ১৩০ জনকে মুক্ত করতে সরকারের অক্ষমতায় হতাশা প্রকাশ করেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

৭ ই অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার সময় ইলাদ কাতজিরকে অপহরণ করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শনিবার আইডিএফ তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। জানুয়ারিতেও জিম্মিদের নিয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে জীবিত দেখা গিয়েছিলো।

“ ইলাদ কাতজির বন্দীদশায় তিন মাস বেঁচে থাকতে পেরেছিলেন। আজ আমাদের সাথে তার থাকা উচিত ছিলো। সে আজ আমাদের সাথে থাকতে পারতো” একজন বিক্ষোভকারী নাওম পেরি বিবিসির একজন রিপোর্টারকে বলেছিলেন।

আয়োজনকারীরা জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের প্রায় ৫০টি স্থানে সমাবেশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে সরকারবিরোধী ধারাবাহিক সমাবেশগুলোয় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে যে, তিনি বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেখানে এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, তিনি হয়তো বাকি জিম্মিদের আর মুক্ত করতে পারবেন না।

এদিকে তেল আবিবে বিক্ষোভ চলাকালীন সমাবেশে গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল, এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছে। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এদিকে গাজায় হামাসের হামলার ঠিক ছয় মাসের মাথায় আজ রোববার যুদ্ধ অবসানে একটি ‘যুদ্ধবিরতি’তে পৌঁছাতে কায়রোতে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ ডিরেক্টর বিল বার্নস এবং কাতারি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি মিসর, ইসরায়েল এবং হামাস থেকে আসা আলোচকদের সাথে বসবেন।

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, হামাসের হামলার সময় ২৫৩ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অপহরণের পরও ১২৯ জন জিম্মি হিসাবের বাইরে রয়ে গেছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইডিএফ ১২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

ইসরায়েলি সরকারি পরিসংখ্যানে কয়েকজনের নাম বেশি রয়েছে, কারণ ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে জিম্মি হওয়া চার ব্যক্তিকে ওই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইসরায়েল। এদের মধ্যে দুইজন মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত