ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত কুয়াকাটা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৭ পিএম

ঈদুল ফিতর এবং পহেলা বৈশাখ মিলে এবার বেশ লম্বা ছুটিকে কাজে লাগাতে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে আসছেন কুয়াকাটায়। এই লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে অগ্রীম হোটেল বুকিং। শুধু হোটেলই নয় নিজেদেরকে সার্বিকভাবে প্রস্তুতি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।

পর্যটকদের বরণে হোটেল-মোটেলগুলো সেজেছে রঙ্গিন সাজে, সৌন্দর্য মন্ডিত করা হয়েছে যাতায়াতের পথগুলো, রঙ্গিন হচ্ছে প্রতিটি হোটেলের কক্ষগুলো, প্রতিটি আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট নিয়েছে পর্যটক আকর্ষণের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা।

হোটেল কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার পর্যন্ত ইতোমধ্যে প্রায় প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর ৪০-৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর ৩০-৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রীম বুক হয়ে গেছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় স্টেক হোল্ডার, ১৬টি পেশার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে একটি আলোচনা সভা করেন কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক মো. নুর কুতুবুল আলম।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম বলেন, পুরো রমজান মাসজুড়ে পর্যটক শূন্য ছিল কুয়াকাটা। সেই সুযোগ হোটেল-মোটেলগুলো পরিপাটি করে তাদের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছি। ঈদের ছুটি থেকে টানা ছুটিতে লাখো পর্যটকদের আগমন ঘটবে কুয়াকাটায় এমনটাই আশাবাদী আমরা। 

সৈকতে দীর্ঘদিন পর্যটক কম থাকায় পুরো সৈকত জুড়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নতা। শীত মৌসুমের শেষে বর্ষার শুরুতে সৈকতে উঁচু ঢেউ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, বর্ষার একটি আমেজ উপভোগে অনেকেই ছুটে আসবেন কুয়াকাটা এমনটা আশা তার।

হোটেল ডি'মোর এর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল বলেন, আমাদের হোটেলে মোট ৩০ টি কক্ষ রয়েছে। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র এখন পর্যন্ত বেশ বুকিংয়ের ফোন আসছে। ইতোমধ্যে শুক্রবার ও শনিবারের জন্য ৪০ শতাংশ অগ্রীম বুক হয়ে গেছে। আশা করছি বাকি দিনগুলোতে আমরা পুরোপুরি বুকিং পাবো। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে ইতোমধ্যে আমরা সুইমিং, হোটেলের বাড়তি সৌন্দর্য বর্ধনসহ নানা আয়োজন হাতে রেখেছি।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র  সহ সভাপতি সোলাইমান বিশ্বাস জানান, পর্যটকদের আগাম সম্ভাবনাকে ঘিরে আমরাও প্রস্তুতি নিয়েছি যাতে পর্যটকদের পুরোপুরি সেবা ও বিনোদন দিতে পারি। ইতোমধ্যে আমাদের কাছে অনেকগুলো বুকিং আসছে, প্রতিটি উৎসবের বন্ধকে ঘিরে আমরা প্রস্তুতি রাখি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য।

কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, ঈদকে ঘিরে বাড়তি পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সেরেছে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি তিনজন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট। স্কাউট থেকে বেশ কয়েকটি টিমে ভাগ করে স্বেচ্ছাসেবক ও সৈকতে রেস্কিউ টিমের সদস্য কাজ করবে। যাতে বাড়তি ভাড়া বা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার পর্যটকরা না হন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, ঈদের বন্ধে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লেম্বুরবন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে- ছিটিয়ে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম। জল-স্থল পথে সার্বক্ষণিক আমরা পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত