আয়ের ৫৪ শতাংশ দিতে হয় সরকারকে

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩২ এএম

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন সেবার ওপর করহার বেশি। মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ টাকা আয় করলে তার ৫৪ টাকাই সরকার পায় বিভিন্ন ধরনের কর ও ফি বাবদ। এ আয়ের মাত্র ২৬ টাকা রাখতে পারে মোবাইল ফোন অপারেটরা।

গতকাল রবিবার মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) ও টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অপারেটরদের পক্ষ থেকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য টেলিযোগাযোগ খাতের করনীতি বিষয়ে এ গোলটেবিল বৈঠক হয়। বৈঠকে টেলিযোগাযোগ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও করনীতি তুলে ধরেন অ্যামটবের মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার।

বৈঠকে অ্যামটবের উপস্থাপনায় দেখানো হয়, অপারেটদের প্রতি ১০০ টাকা আয়ের ৩৯ টাকা বিভিন্ন কর বাবদ নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। লাইসেন্স, তরঙ্গসহ বিভিন্ন ফি বাবদ ১৫ টাকা নেয় বিটিআরসি। ১৮ টাকা পায় টাওয়ার কোম্পানিসহ বিভিন্ন বেসরকারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, যারা টেলিযোগাযোগ খাতে সেবা দেয়। ২৬ টাকা রাখতে পারে অপারেটর।

সরকার টেলিযোগাযোগ খাত থেকে কর ও ফি বাবদ যে হারে অর্থ নেয়, তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় অনেক বেশি বলে উল্লেখ করা হয় অ্যামটবের উপস্থাপনায়। সেখানে বলা হয়, এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় হার ২২ শতাংশ। বাংলাদেশে যা দ্বিগুণের বেশি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ কোম্পানির ক্ষেত্রে হারটি ৪০ শতাংশ। অন্যদের ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ। কর ও ফি বেশি না হলে টেলিযোগাযোগ সেবার ব্যবহার আরও বাড়ত এবং তা দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বাড়াতে বেশি ভূমিকা রাখত।

টেলিযোগাযোগ খাতে কর বছর বছর কতটা বেড়েছে, তা-ও তুলে ধরা হয় অ্যামটবের উপস্থাপনায়। বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গ্রাহক ১০০ টাকা মোবাইল ফোনে রিচার্জ করলে তা থেকে কর কাটা যেত ২১ টাকা ৭৫ পয়সা। এখন যায় ৩৩ টাকার কিছু বেশি।

মুনাফা হোক, লোকসান হোক, অপারেটরদের মোট আয়ের ওপর ২ শতাংশ লেনদেন কর দিতে হয় বলে উল্লেখ করে অ্যামটব বলেছে, তামাক কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে হারটি ৩ শতাংশ। তামাক ব্যবসা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাদের মতো মোবাইল অপারেটরদের ওপর উচ্চহারে লেনদেন কর আরোপ অযৌক্তিক।

গোলটেবিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এনবিআরকে কর আদায়ের নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশকে স্মার্ট করতে গেলে স্মার্ট করনীতি প্রয়োজন, নয়তো প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। স্মার্ট ট্যাক্সেশন পলিসি ছাড়া টেলিকম সেক্টরের কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। এ খাতে দ্বৈত করের যে নীতি আছে, তা বাদ দেওয়া উচিত। ট্যাক্স নিয়ে আরও কিছু পলিসি রয়েছে যেগুলো সংস্কার করা দরকার।

অ্যামটব সভাপতি ও গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে করপোরেট করহার তামাক কোম্পানির মতো বেশি হওয়া উচিত নয়। তিনি করকাঠামো পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত