ইনজুরি কাটিয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামলেন লিওনেল মেসি, গোলও করলেন। তবু ম্যাচ জিততে পারেনি ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) শনিবার অনুষ্ঠিত মায়ামি ও কলোরাডো র্যাপিডসের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। ড্র হলেও ম্যাচে আধিপত্য ছিল স্বাগতিক মায়ামির।
চেস স্টেডিয়ামে শুরুর একাদশে মেসি ছাড়াও জর্দি আলবা, বুসকেটস, লুইস সুয়ারেজ ছিলেন না। পরে মেসির মতো বুসকেটস ও আলবা বদলি নামলেও মায়ামি কোচ মাঠে নামাননি সুয়ারেজকে। বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার সকালে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মন্টেরের বিপক্ষে খেলবে মায়ামি। সে কারণেই মায়ামি কোচ এমন একাদশ সাজান।
ম্যাচের ৪৫ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল মেসি-সুয়ারেজরা। মায়ামির বক্সে ক্যাবরাল ফাউলের শিকার হন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক থেকে গোল করেন রাফায়েল নাভারো। বিরতির পরই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। ৫৭ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে কোনাকুনি শটে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। মাঠে ফেরার ম্যাচে নতুন মাইলফলকও গড়েছেন মেসি। এই গোলে টানা ১৭ বছর ২০ বা বেশি গোল করলেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে এই নজির নেই আর কারও।
তিন মিনিট পর মায়ামি লিড নেয়। সেই গোলেও ছিল মেসির ভূমিকা। তার পাস ধরে ডেভিড রুইজ বক্সে ঢোকেন, রুইজের বাড়ানো বল পেয়ে কলোরাডো গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে লিওনার্দো আলফনসো বল জালে জড়ান। তবে শেষ সময়ের গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে সফরকারী কলোরাডো। ৮৮ মিনিটে স্কোরলাইন ২-২ করেন কোল বাসেট।
ম্যাচের পর মেসিকে নিয়ে মায়ামি কোচ জেরার্দো মার্তিনো বলেন, ‘মেসি যা করেছে (দারুণ গোল) এটি তার জন্য স্বাভাবিক। সে আমাদের দলে, সতীর্থদের মধ্যে, সমর্থকদের জন্য অনুপ্রেরণা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেসি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছিলেন। ভালো করেছেন।’ ইনজুরি থেকে ফিরে এমন দারুণ পারফরম্যান্স মেসিকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে মনে করেন মায়ামি কোচ। ‘ইনজুরি থেকে ফেরার পর এটি (গোল) তাকে মন্টেরের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগের জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।’
এগিয়ে থেকেও ড্র করেছে দল। দুই পয়েন্ট হারিয়ে হতাশ মার্তিনো। ‘দুই পয়েন্ট হারানো লজ্জাজনক। আমরা প্রতিনিয়ত ভুল করে যাচ্ছি ফলে পয়েন্ট হারাচ্ছি। ৮৭ মিনিটে ২-১ এ এগিয়ে থাকার পর কাউন্টার অ্যাটাকে গোল হজম করা স্বাভাবিক নয়। এটি ম্যাচকে ভালোভাবে পর্যালোচনা না করার ফল। এমনটি হতে থাকলে সামনেও ভুগব আমরা।’
এমএলএস-এ ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৮ ম্যাচে ৩টি করে জয় ও ড্র নিয়ে ১২ পয়েন্টে মায়ামির অবস্থান টেবিলের দুইয়ে। এক ম্যাচ কম খেলে শীর্ষে থাকা নিউ ইয়র্ক রেডবুলসের পয়েন্ট ১৪।
