ঈশ্বরগঞ্জে পুরনো কাপড়ের দোকানে ঈদের ভিড়

‘ছেলেদের জন্য নতুন কিনেছি, আমার জন্য পুরনো জামা কিনতে এসেছি’

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৫ এএম

এক ছেলেকে কোলে নিয়ে আরেক ছেলেকে হাতে ধরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পৌর বাজারের পুরনো কাপড়ের দোকানে নিজের জন্য সালোয়ার-কামিজ কিনতে এসেছেন ফাতেমা বেগম। জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘অভাবের সংসার। ছেলেরা পুরাতন কাপড় পরতে চায় না। তাই ছেলেদের জন্য নতুন কাপড় কিনে আমি পুরনো সালোয়ার-কামিজ কিনতে এখানে এসেছি।’

উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কাঁঠাল গ্রামের খোকন মিয়া তার ছেলে মোফাসসিরকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন পুরনো কাপড়ের দোকানে। সেখানে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছেলের জন্য পায়জামা-পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। ছেলের পছন্দ হলে কিনব।’

আরেক ক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, ‘বর্তমানে সবকিছুর দাম বেশি। মার্কেটে নতুন কাপড় কিনতে গিয়ে মাথা ঘুরে গেছে। নতুন কাপড় কেনার শখ মিটে গেছে। মনে ইচ্ছা থাকলেও মার্কেট থেকে জামাকাপড় কিনার সাধ্য নেই। তাই এখান থেকে অল্প টাকার মধ্যে শার্ট ও লুঙ্গি কিনেছি।’

ঈদ কড়া নাড়ছে দরজায়। সবাই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত। অন্যরা যখন বড় বড় শপিং মলে দামি নতুন জামা-কাপড় কিনতে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে ফাতেমা বেগম, খোকন মিয়া কিংবা সোহেল মিয়ার মতো নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছেন ঈশ্বরগঞ্জের এই পুরনো কাপড়ের দোকানে। নতুন জামা কেনার সাধ্য নেই, তাই সন্তান কিংবা নিজের ঈদ উদযাপনের জন্য পুরনো কাপড়কেই বেছে নিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে গতকাল রবিবার ঈশ্বরগঞ্জ পৌরবাজারের পুরাতন ব্রিজের পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে। দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো পায়জামা-পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট ও লুঙ্গি। মেয়েদের জন্যও রয়েছে নানা রকমের সালোয়ার, কামিজ, ফ্রক, লেহেঙ্গা, শাড়ি, বোরকাসহ অনেক কিছু। তবে এসব পোশাকের কোনোটিই নতুন নয়। মানুষের ব্যবহৃত পোশাক ধুয়ে পরিষ্কার করে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

উপজেলার উচাখিলা, আঠারবাড়ি ও পৌর এলাকার পুরনো কাপড়ের বাজারে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় মিলছে শার্ট, ৫০ থেকে ১৫০ টাকায় প্যান্ট, ৪৫ থেকে ১২০ টাকায় শাড়ি, ৪০ থেকে ৭০ টাকায় লুঙ্গি, ৩০ থেকে ৪৫ টাকায় ছোটদের গেঞ্জি এবং ৫০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে সালোয়ার-কামিজ। কাপড়ের গুণগত মান অনুযায়ী দাম কমবেশি হয়। একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অধিকাংশই স্বল্প আয়ের মানুষ।

পৌর বাজারের পুরনো কাপড় ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, ‘এবারের ঈদে বেচাকেনা কিছুটা কম। তবে শেষ দুদিন বেচাকেনা কিছুটা বাড়তে পারে।’

আরেক ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা বেশি হতে পারে। সামনে বৈশাখ ও বোরো ধানের মৌসুম থাকায় ঈদের পরও বেচাকেনা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত