মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই জলোৎসবে মেতেছে পাহাড়ের মারমারা। মারমা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বুধবার শুরু হবে মারমাদের নতুন বছর। নতুন বছর শুরুর প্রাক্কালে পুরনো বছরের দুঃখ কষ্টকে বিদায় দিতে জলের মাধ্যমে আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতেছে মারমারা।
পাহাড়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বৈসাবির শেষদিন জলকেলিতে মেতে উঠে মারমা জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা। পুরোনো বছরের সকল দুঃখ, কষ্ট, বেদনাকে ভুলে গিয়ে একে অন্যের প্রতি ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে একে অন্যকে পানি ছিটিয়ে শুদ্ধ করে নিলেন মারমা তরুণ-তরুণীরা। মঙ্গলবার রাঙামাটির চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) এর কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী এই জলকেলি বা পানি উৎসবে মারমা জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা মেতে ওঠে।
'আমাদের সংস্কৃতি আমাদের পরিচয়' এই স্লোগানে জলোৎসবে মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, গেস্ট অব অনার ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জ্বরতি তঞ্চঙ্গ্যা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান, পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে জলোৎসবের এই অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পর্যটকরা হাজির হন।
আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, বৈসাবি উৎসব পার্বত্য চট্টগ্রামে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এটি শুধু সাংষ্কৃতিক উৎসবই নয়, এর সাথে ধর্মীয় অনুভূতিও জড়িত। তাই এটি সামাজিক সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবও।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন সকল ভাষাভাষি ও সকল ধর্মের লোক সম্প্রীতির সাথে বসবাস করবেন। তারই সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে। আজকের এই এত লোকের উপস্থিতি প্রমাণ করে আমরা শান্তি চাই, সম্প্রীতি চাই, ঐক্য চাই। দেশের কল্যাণে যা যা করার সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের এই সম্প্রীতির বন্ধন ঐতিহ্যের অংশ। আমাদের জ্ঞাতি-গোষ্ঠী সকলেই মিলেমিশে এই যে উৎসব পালন করি সেটাই সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, পুরোনো বছরের যে দীনতা, হীনতা, গ্লানি যাতে নতুন বছরে আমাদের স্পর্শ না করে, আমরা যাতে আবারো পাক-পবিত্র হয়ে উঠতে পারি, পরস্পরের প্রতি যাতে আমাদের আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায় সে লক্ষ্যে সাংগ্রাইয়ের জলোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিবছর এই আয়োজন। সাংগ্রাই উৎসবের মাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়। যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে পারে।
আলোচনাসভা শেষে অতিথিগণ ‘মগ’ ঘণ্টা বাজিয়ে জলকেলি উদ্বোধন করেন। এরপর সকলে একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে সকল অবসাদ দূর করে দেয়। জলকেলি অনুষ্ঠানের পর মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচ পরিবেশন করা হয়। বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে আগত কয়েক হাজার মারমা নারী-পুরুষ একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে উৎসব পালন করতে থাকে।
চিকিৎসার বাইরে ৩০ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী
অ্যাথেন্সে জ্বলল প্যারিস অলিম্পিকের শিখা
অটোরিকশার নিচে পড়ে শিশু নিহত