টিকিট ছাড়া পার্কে

৫ শিশুকে কান ধরে দাঁড় করে রাখলেন ইউএনও!

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১০ এএম

‘শরীয়তপুর পার্কে’ টিকিট ছাড়া প্রবেশের দায়ে পাঁচ শিশুকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে ও আটকে রাখার নির্দেশের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে। গত সোমবার সন্ধ্যায় পৌরসভার শিল্পকলা একাডেমির মাঠ এলাকায় জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রিত শরীয়তপুর পার্কে এ ঘটনা ঘটে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইনউদ্দিনের নির্দেশে দুজন গ্রামপুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাহারায় শিশুদের তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইনউদ্দিন বলেন, ‘কয়েকজন দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকলে গ্রামপুলিশ ও দায়িত্বরত যারা ছিলেন তারা ওদের ধরে আটকে রাখেন। আমি গিয়ে কাউন্সেলিং করে ছেড়ে দিই। ওরা দু-একজন হয়তো ভয়ে কানে হাত দিয়েছিল।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পার্কটি ঈদের দিন চালু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পার্কের দেখভালের দায়িত্বে আছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনউদ্দিন। সীমানাপ্রাচীর দিয়ে পার্কটির চারপাশ আটকে একটি প্রবেশদ্বার রাখা হয়েছে। পার্কের ভেতরে শিশুদের খেলার জন্য বসানো হয়েছে ১৫-১৬টি বিভিন্ন রাইড। এ ছাড়া পার্কে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। সোমবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকার হাতিরকান্দি, তুলাসার ও স্বর্ণঘোষ এলাকার ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী কয়েকজন শিশু পার্কের আশপাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় তারা নিরাপত্তা প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমানাপ্রাচীর টপকে পার্কে প্রবেশ করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে গ্রামপুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাদের মধ্যে পাঁচজনকে আটক করেন। পরে সেখানে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনউদ্দিন তাদের কানে হাত দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত অনেক দর্শনার্থী মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তোলেন ও ভিডিও ধারণ করেন।

পার্কে দায়িত্বে থাকা প্রহরী জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারি বলেন, ‘দেয়াল টপকে কিছু ছেলে পার্কে ঢোকে। পরে তাদের ধরে শাস্তি দেওয়ার জন্য পানিতে দাঁড় করে রাখা হয়। তবে কানে ধরার বিষয়টি আমি জানি না।’

ভুক্তভোগী এক শিশুর মা আকলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলের কাছে টাকা ছিল না। টাকা না থাকায় ওরা কয়েকজন মিলে পার্কের দেয়ালে বসে দেখতেছিল। একসময় ওরা পার্কে ঢুকে যায়। পরে আনসার আর ইউএনও স্যার ওদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা কানে ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। আনসাররা ওদের বন্দুক দিয়ে ভয় দেখাইছে। এ ঘটনার পর আমার ছেলে এখন ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে চাচ্ছে না।’

ভুক্তভোগী শিশু শাহাদাৎ শিকদার বলে, ‘আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। আমার সঙ্গে থাকা অনেকে ভেতরে ঢুকছে, তাই আমিও ওদের সঙ্গে ঢুকছি। পরে আনসাররা মিলে আমাকে সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আটকে রাখছে। ইউএনও এসে আমাকে কান ধরে রাখতে বলছে আর পার্ক বন্ধ হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখতে বলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত