শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৫ এএম

স্বাস্থ্যই সব সুখের মূল। স্বাভাবিকভাবেই ইবাদতের জন্য শারীরিক শক্তি-সামর্থ্যরে প্রয়োজন হয়। শারীরিক শক্তি-সামর্থ্য মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য আমাদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। ইসলামে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য প্রত্যেককে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।  

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঁচটি অমূল্য সম্পদ হারানোর পূর্বে এগুলোর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। এর অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা। তিনি বলেন, ‘পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিস আসার আগে গনিমতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করো। জীবনকে মৃত্যু আসার পূর্বে। সুস্থতাকে অসুস্থ হওয়ার পূর্বে। অবসর সময়কে ব্যস্ততা আসার পূর্বে। যৌবনকে বার্ধক্য আসার পূর্বে এবং সচ্ছলতাকে দরিদ্রতা আসার পূর্বে।’ -মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৮/১২৭

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা সম্পর্কে ইসলামে বিশদ আলোচনা রয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সতর্কতা সত্ত্বেও কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে এর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিও রয়েছে জোরালো তাগিদ।

ইসলাম রোগপ্রতিরোধেও গুরুত্বারোপ করেছে। রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করেছে। এজন্য আমরা দেখতে পাই, যে বিষয়গুলোর কারণে মানুষের রোগ হয় ইসলাম আগেই সেগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। ইসলামে হালাল-হারাম খাবারের বিবরণ দেখলে তা সহজেই অনুমেয় হয়। ওহাব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার শরীরের হক রয়েছে।’ -সহিহ বুখারি ৫৭০৩

স্বাস্থ্য রক্ষা করার বিষয়ে শরিয়তের জোর তাগিদ রয়েছে। শরীরের যথেচ্ছ ব্যবহার উচিত নয়। কোরআন সুন্নাহ এবং ইসলামি শরিয়ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যেমন গুরুত্ব দিয়েছে তেমনি তা কার্যকরের ফলপ্রসূ উপায়ও বাতলে দিয়েছে। যেমন নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম করা এবং পরিমিত আহার ও সময়ানুযায়ী খাবার গ্রহণ ইত্যাদি। কাজেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সচেষ্ট হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের ইমান ও বিশ্বাসের দাবি।

কোনো কারণে মানুষ অসুস্থ হলে মহান আল্লাহ তাকে তার অসুস্থতার কারণে সওয়াব ও পুণ্য দান করেন। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অসুস্থ হলে অবশ্যই তাকে কেয়ামতের দিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাছাড়া অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের চেয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সুস্থ থাকাকে ইসলাম অধিক উৎসাহিত করেছে। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন বান্দাকে নিয়ামত সম্পর্কে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি করা হবে তা হলো তার সুস্থতা সম্পর্কে। তাকে বলা হবে আমি কি তোমাকে শারীরিক সুস্থতা দিইনি?’ -সুনানে তিরমিজি

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাহাবিদের দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন এবং তিনি নিজে অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কেননা মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি। তবে একটি রোগ আছে যার কোনো প্রতিষেধক নেই। সেটি হলো বার্ধক্য।’ -সুনানে আবু দাউদ

কাজেই স্বাস্থ্য সচেতনতা, শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং অসুখ হলে চিকিৎসা নেওয়া একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মুমিনরা পার্থিব-অপার্থিব প্রতিটি কর্মের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেন। আর তার পক্ষ থেকে পুণ্য ও সওয়াব লাভে ধন্য হন। আমাদের সবার জীবনে সুস্থতার নিয়ামত বর্ষিত হোক। আমিন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত