বিশ্বের যে ১০টি দেশ হেপাটাইটিস-বি ও হেপাটাইটিস-সি-এর উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বাংলাদেশের পরে আছে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও রাশিয়া। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে চীন। এরপর ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশে^র হেপাটাইটিসের দুই তৃতীয়াংশ রোগী এসব দেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল হেপাটাইটিস রিপোর্ট ২০২৪’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ৯ এপ্রিল সংস্থার তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সব বয়সী ৮৩ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ৭২ লাখ রোগী হেপাটাইটিস বি ও ১০ লাখ ২০ হাজার রোগী হেপাটাইটিস সি’তে আক্রান্ত। দুই ধরনের হেপাটাইটিসে আক্রান্তের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
শীর্ষে থাকা চীনে দুই ধরনের হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ কোটি ৩৮ লাখ ও আক্রান্তের হার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৫৩ লাখ ও আক্রান্তের হার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ায় ১ কোটি ৮৯ লাখ ও আক্রান্তের হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশের এক ধাপ ওপরে থাকা পাকিস্তানে রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ২৬ লাখ ও আক্রান্তের হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। তালিকার সবার নিচে থাকা রাশিয়ায় রোগীর সংখ্যা ৪৩ লাখ ও আক্রান্তের হার ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
অবশ্য শুধু হেপাটাইটিস বি রোগের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। এ তালিকার শীর্ষে আছে চীন। এরপর ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। সবার নিচে পাকিস্তান।
তবে শুধু হেপাটাইটিস সি রোগের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৫ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। এরপর ভারত ও চীন। তালিকার সবার নিচে রয়েছে মালয়েশিয়া।
সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে হেপাটাইটিস বি ও সি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে ২৫ কোটি ৪০ লাখ হেপাটাইটিস বি ও ৫ কোটি হেপাটাইটিস সি ভাইরাস বহন করছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্তদের অর্ধেকের বয়স ৩০ থেকে ৫৪ বছর। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ পুরুষ এবং ১২ শতাংশ শিশু।
সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে ১৮৭টি দেশের নতুন তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে ভাইরাল হেপাটাইটিসে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ১৩ লাখে দাঁড়িয়েছে। হেপাটাইটিস সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ মানুষ মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি’তে মারা যাচ্ছে ৮৩ শতাংশ এবং হেপাটাইটিস সি’তে ১৭ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে এবং ৩ শতাংশ অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা পেয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩৬ শতাংশ ডায়াগনসিস হয়েছে এবং ২০ শতাংশ ওষুধ পেয়েছে। ২০২২ সাল নাগাদ ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি চিকিৎসা পেয়েছে ও ১ কোটি ২৫ লাখ হেপাটাইটিস সি চিকিৎসা পেয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে রোগটি নিয়ন্ত্রণে বৈশি^ক লক্ষ্যমাত্রার অনেক কম।
