শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিবৃতিতে ফখরুল

সরকারের মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:২৬ এএম

মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে, নেতাকর্মীদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে সরকার গোটা দেশকেই কারাগারে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দেশটা এখন সরকারের মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে।’

গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন।

১৭ ও ১৮ এপ্রিল দিনাজপুর জেলা বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাদের এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর ও কারান্তরীণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে এ বিবৃতিতে দিয়েছেন তিনি।

গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ডামি নির্বাচন আখ্যায়িত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জোরজবরদস্তিমূলকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী শাসকগোষ্ঠী অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। অব্যাহত গতিতে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা করে বিরোধী নেতাকর্মীদের পর্যুদস্ত ও নাজেহাল করা হচ্ছে। আর এ ধরনের অপকর্ম সাধনের একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশের বিরোধী দলগুলো যেন দখলদার সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের সমালোচনা করতে সক্ষম না হয়।’

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি শামীম চৌধুরী, মোজাহারুল ইসলাম, স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক নুর ইসলাম (চেয়ারম্যান), ঘোড়াঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিঞা, জেলা যুবদল সভাপতি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোন্নাফ মুকুল, বিরল উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মমিনুল ইসলাম (দলিল লেখক), বিরল উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. আরমান আলী, মো. মমিন, মো. হাসিনুর রহমান পায়েল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আবুল মনছুর খান দিপকের নাম উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, ‘এসব নেতার জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে জুলুমবাজ সরকারের চলমান নিরবচ্ছিন্ন অপকর্মেরই অংশ।’ অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বানোয়াট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানান তিনি।

‘সরকারের অন্যায়ের রেকর্ড করা আছে’

সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জিয়া প্রজন্মদল কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত বিএনপির কারাবন্দি নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বিনা কারণে কারাগার বিএনপির নেতাকর্মীদের এখন স্থায়ী ঠিকানা হয়ে গেছে। তবে এই সরকারের প্রতিটি অন্যায় অপকর্মের রেকর্ড করা আছে।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের কারাগারে ঢোকানো, ধরে ফেলা এ কর্মসূচি যেন শেখ হাসিনার শেষই হচ্ছে না। আমার মনে হয় তিনি একটা আতঙ্কে ভুগছেন। এর কারণ হলো, তিনি জানেন তার কোনো জনসমর্থন নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনসমর্থন না থাকলে যে সরকার প্রচ- স্বেচ্ছাচারী হয়, ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে এবং জনগণের আওয়াজ পেলেই তারা সেটাকে দমন করে। সে জিনিসটা বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জিয়া প্রজন্মদল কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান পারভীন কাউসার মুন্নী। পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব  মো. সারোয়ার হোসেন রুবেল। বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত