রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উত্তপ্ত সড়ক ছাড়েনি ট্রাফিক পুলিশ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৩ পিএম

তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি। জারি হয়েছে সতর্কবার্তা। কড়া রোদ, তীব্র গরম, যানজট, উচ্চ শব্দের হর্ন সব মিলিয়ে বিভীষিকাময় এক পরিস্থিতি রাজধানীজুড়ে। আর এসবের মাঝেও নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। যখন তীব্র গরমে সাধারণ মানুষ বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে তখন যানজট নিয়ন্ত্রণে তারা  সড়কে দাড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। 

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলছে, এবারের মতো তাপদাহ এর আগে কখনও দেখেননি তারা। এমনিতেই রাজধানীতে প্রচণ্ড গাড়ির চাপ সামলাতে তাদের নানা রকম সমস্যা হয়। এছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত শব্দ দূষণ থেকে শুরু করে বায়ু দূষণের শিকার হতে হয় তাদের। এর মধ্যে চলমান তাপদাহ তাদের কষ্টের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তারা রাজধানীর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এতে রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক সদস্যগণ হিট স্ট্রোকসহ পানি শূন্যতা, মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছে। অনেক ট্রাফিক সদস্যরা ডিহাইড্রেশনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। যেসব ট্রাফিক সদস্যের হাই-প্রেসার আছে তাদের এই গরমে দায়িত্ব পালন করতে আরও বেশি সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ইউনিফর্ম পরে এ গরমে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরও বেশি সমস্যা হচ্ছে। আবার যেসব পুলিশ বক্স টিন-শেডের সেখানে আরও ভয়াবহ গরম। ফলে সেখানে বিশ্রাম নেওয়ারও সুযোগ নেই।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রখর খরতাপ উপেক্ষা করে দায়িত্বপালনরত ট্রাফিক বিভাগের প্রতিটি সদস্যের পেশাদারিত্ব ও মনোবল অটুট রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। 

তার নির্দেশনায় প্রচণ্ড দাবদাহে কমর্রেত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের একটু বাড়তি স্বস্তি দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। 

এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগের প্রত্যেক সদস্যের জন্য সুপেয় পানির বোতল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাবার স্যালাইন, ফলের জুস, লেবুর শরবত প্রভৃতি সরবরাহ করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ছাতা সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাফিক বক্সে হাত-মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে ও তাপপ্রবাহের মধ্যেও সুস্থ থাকতে প্রত্যেক ফোর্সকে করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে ব্রিফিং প্রদান করা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক প্রধান) মুনিবুর রহমান বলেন, তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এই মুহূর্তে উত্তপ্ত রোদে ইউনিফরম পরে পিচঢালা সড়কে দাঁড়িয়ে নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব একাগ্রচিত্তে পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। 

এ সময় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়াতে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে একদিকে ফোসের্র মনোবল যেমন চাঙা হচ্ছে, অপরদিকে দাবদাহের মধ্যেও ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে নগরবাসী পাচ্ছেন সর্বোত্তম সেবা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগের সকল পুলিশ সদস্যদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবার স্যালাইন সরবরাহের উদ্যোগ নেন। এই তীব্রে তাপদাহ যতদিন থাকবে ততদিন পুলিশের এই কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে ট্রাফিক রমনা বিভগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সোহেল রানা জানান, এই অসহনীয় গরমে রাস্তায় ডিউটি করা সত্যিই কষ্টকর। কমিশনার এই উপলব্ধি থেকে ট্রাফিকের সকল পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইনের ব্যবস্থা করেছেন। এই উদ্যোগ ট্রাফিকের সকল সদস্যদের এই তীব্র গরমের মাঝেও দায়িত্ব পালনে আরও উদ্বুদ্ধ করবে।

এদিকে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের জন্য সরবরাহ করা বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবার স্যালাইন অসহায়দের মাঝেও বিতরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটটি বিভাগের ট্রাফিক সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির বোতল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাবার স্যালাইন, ফলের জুস, লেবুর শরবত প্রভৃতি সরবরাহ করা হচ্ছে। সড়কে রিকশাচালক ছাড়াও অনেক অসহায় মানুষকে এসব খাবার দেয়া হয়েছে। 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত