হেরেই চলেছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আইপিএলের চলতি আসরে সেই যে দ্বিতীয় ম্যাচে পেয়েছিল জয়ের দেখা। তার পর থেকে হারই তাদের নিত্যসঙ্গী। গতকাল ইডেন গার্ডেনসে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়েও হেরেছে ১ রানে। তাতে আসরে টানা ষষ্ঠ হারের স্বাদ পেয়েছে ক্রিকেটের মহাতারকা বিরাট কোহলির দল।
অথচ এই দলেই কোহলি ছাড়াও আছেন আরও অনেক তারকা। বেঙ্গালুরুর বর্তমান অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি, ক্যামেরুন গ্রিন, লকি ফার্গুসনরা। আছেন ভারতীয় পেস আক্রমণের অন্যতম কাণ্ডারি মোহাম্মদ সিরাজ। নিজেকে ভেঙেচুরে নতুন করে গড়া ৩৯ ছুঁই ছুঁই দিনেশ কার্তিকও আছেন। খেলেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি রাহুল দ্রাবিড় ও অনিল কুম্বলেও। কিন্তু কেউই আজ অবধি তাদের শিরোপা এনে দিতে পারেননি। প্রত্যেকেই থেমে গেছেন ফাইনালে রানার্স-আপ হয়েই।
দিন কয়েক আগে দলটির সাবেক ক্রিকেটার রবিন উথাপ্পা জানিয়েছিলেন, ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে না পারা এবং ভারতীয় ক্রিকেটারদের যথাযথ মূল্যায়ন না করায় ১৭টি আসরের মধ্যে একবারও শিরোপা জিততে পারেনি দলটি। সর্বোচ্চ সাফল্য তিনবার রানার্স-আপ হওয়া। ৮বার তারা সেরা চারে জায়গা করে নিতে পেরেছে। বাকি আসরগুলোতে লিগ স্টেজ থেকেই নিয়েছিল বিদায়। এবারও উঁকি দিচ্ছে সেই আশঙ্কাই।
টুর্নামেন্টের ১৪ ম্যাচের ৯টি জিতলেই নিশ্চিত হয় প্লে-অফ। তারপরও নানা সমীকরণে শীর্ষ চার দলের তালিকায় প্রবেশ সম্ভব হয়। কিন্তু বেঙ্গালুরু এবার সেই তালিকাতেও নেই। এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচ খেলে ৭টিতেই তারা হেরেছে। পয়েন্ট মাত্র ২। বাকি আছে আর ৬ ম্যাচ। সেগুলোর সবকটি জিতলেও পয়েন্ট হবে ১৪। গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পয়েন্ট দিয়ে প্লে-অফে যাওয়া সম্ভব নয়।
গত আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৬ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার চতুর্থ দল হয়ে প্লে-অফ খেলেছিল। একইভাবে ২০২২ সালে বেঙ্গালুরুও সমান পয়েন্ট নিয়ে গিয়েছিল নকআউট ম্যাচে। যদিও এর আগের বছরে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা গিয়েছিল সেরা চারে। করোনার বছরের আসরটিতে কোহলির দলও একই পয়েন্ট নিয়ে জায়গা করেছিল শীর্ষ চারে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১২ পয়েন্ট নিয়েই খেলতে পেরেছিল নকআউট পর্বে।
তবে এখন আর সেটা সম্ভব নয়। কারণ ঐ সময়গুলোতে আইপিএলে দল ছিল ৮টি। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ১০টিতে। ম্যাচসংখ্যা ঐ ১৪টিতে থাকলেও দল বাড়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। তাই সবারই লক্ষ্য থাকে বেশি ম্যাচ জিতে প্লে-অফের জন্য নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নেওয়া। সেই দৌড়েই পিছিয়ে গেছেন ফাফ ডু প্লেসিরা।
আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে হেরে যায় বেঙ্গালুরু। তারপরের ম্যাচে অবশ্য পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে দেয় তারা। সেটাই ছিল আইপিএলে এখন পর্যন্ত তাদের শেষ জয়। এর পর থেকে শুধু হেরেই চলেছে। আজ দেখেছে টানা ষষ্ঠ হারের মুখ। যদিও এটাই প্রথম টানা হার দেখা নয়। আগেও এমনটি হয়েছে। ২০১৯ ও ২০১৭ সালেও তারা দেখেছে টানা হারের মুখ।
এবার যেমন তারা আছে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে। ২০১৯ সালেও তারা তালিকার তলানিতে ছিল। ৮ ম্যাচে তারা হেরেছিল। যার মধ্যে প্রথম ৬ ম্যাচেই তারা টানা হেরেছিল। সপ্তম ম্যাচে জয়ের দেখা পেলেও পরের ম্যাচে আবার দেখে হারের মুখ। ২০১৭ সালের পয়েন্ট তালিকার শেষ দল হয়ে তারা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। সেবার হার দিয়ে শুরু করলেও দ্বিতীয়টিতে হারিয়ে দেয় দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে। কিন্তু তারপর টানা তিন ম্যাচ হারের পর পেয়েছিল জয়। তবে একটি ম্যাচ জিতেই ফের ডুবে যায় হারের বৃত্তে। টানা ৭ ম্যাচে পায়নি জয়। তবে সেখানে অবশ্য একটি ম্যাচ হয়েছিল পরিত্যক্ত।
