মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আইনসভার নিয়ন্ত্রণও পেলেন মোহাম্মদ মুইজ্জু। গত রবিবার দেশটির আইনসভার নির্বাচনে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ‘চীনপন্থি’ বলে পরিচিত এই নেতার দল পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস (পিএনসি)। আইনসভার ‘পিপলস মজলিশ’ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে আগামী দিনে দেশটির শাসনক্ষমতায় নিজের নীতি আরও জোরালোভাবে আরোপ করতে পারবেন তিনি। গত রবিবার সকাল থেকে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা ধরে চলে ভোটগ্রহণ। এতে বেশিরভাগ আসনে জয় পায় পিএনসি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে দুই লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ৯৩ আসনের আইনসভায় ৩২৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে দেখা যায়। এতে ৯০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পিএনসির প্রার্থীরা ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেন। পিএনসির জোটসঙ্গী মালদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (এমডিপি) দুটি এবং মালদ্বীপ ন্যাশনাল পার্টি (এমএনপি) একটি আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে, বিরোধী দল মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি) মাত্র ১০টি আসনে জয় পেয়েছে। এ ছাড়া জামহুরি পার্টির একজন এবং ১১ জন স্বাধীন প্রাথী জয় পেয়েছেন। অর্থাৎ পিএনসি বিপুল জয় নিয়ে আগামী দিনে আইনসভার নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে।
মালদ্বীপের এবারের নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর জন্য কঠিন পরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, চীনপন্থি মুইজ্জু প্রেসিডেন্ট হলেও আইনসভার নিয়ন্ত্রণ ছিল তার পূর্বসূরি ‘ভারতপন্থি’ বলে পরিচিত নেতা ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহর দল এমডিপির হাতে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সোলিহকে হারিয়ে মুইজ্জু প্রেসিডেন্ট হন। এরপর তিনি দেশ থেকে ভারতের সেনাঘাঁটি সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। দেশে ভারতের প্রভাব হ্রাস করে চীনমুখী নীতি গ্রহণ করেন। আইনসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালেই তিনি চীনের সঙ্গে অবকাঠামো নির্মাণের চুক্তি করেন।
এখন মুইজ্জুর জন্য শাসনকাজ চালানো সহজ হবে। কারণ এত দিন বিরোধী আইনপ্রণেতারা নানাভাবে তার কর্মকান্ডে বাধা সৃষ্টি করছিল। এমনকি সরকার ও মন্ত্রিসভার কাজ চালাতেও সমস্যা হচ্ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিরোধী পক্ষের আইনপ্রণেতাদের আপত্তিতে তার মনোনীত তিনজনের মন্ত্রিসভায় যোগদান আটকে যায়। মুইজ্জু কর্তৃক প্রস্তাবিত কয়েকটি বিলও আটকে দেন ওইসব আইনপ্রণেতারা।
