গাইবান্ধার দেড় শতাধিক পরিবারের পুনর্বাসন হয়নি

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৮ এএম

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদারপুর গ্রামের সোনিয়া আক্তার (৩৭)। জীবিকার তাগিদে গিয়েছিলেন ঢাকায়। ১১ বছর আগে আজকের এই দিনে ঢাকার সাভারে রানা প্লাজাধসের ঘটনায় বাম পা হারান তিনি। সোনিয়ার বাড়িতে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দেখতেই পারছেন পরিবারের করুণ অবস্থা। রানা প্লাজা ভবনধসে পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে। ওই সময় যে অনুদান পেয়েছি। পরে ১১ বছর চলে গেল। পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আহতদের চাকরি দেবেন। কিন্তু চাকরি তো দূরের কথা কেউ খোঁজও নিতে আসেনি। এক ছেলে এক মেয়ে। স্বামীর আয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’

সোনিয়ার স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, ‘অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে চাকরি করতে গিয়ে স্ত্রী পা হারায়। এখন স্ত্রী নিজেই ঠিকভাবে চলতে পারে না, কাজ করবে কীভাবে? যাদের কারণে স্ত্রী পা হারিয়েছে তাদের বিচার চাই।’

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে ধসে পড়ে রানা প্লাজা ভবন। বহুল আলোচিত সেই দুর্ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় প্রায় ২ হাজার। হতাহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যা রয়েছে গাইবান্ধার। ১১ বছরেও আহতদের বা নিহতের পরিবারকে পুনর্বাসন না করায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সেখানে কর্মরত গাইবান্ধার ৪৯ নারী ও পুরুষ নিহত হয়। আহত হয় শতাধিক ও নিখোঁজ হয় ১১ জন। তখন প্রধানমন্ত্রী পরিবারপ্রতি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা অনুদান দেন, যা তিন দফায় নিহতদের পরিবারকে দেওয়া হয়। এরপর বিগত বছরে কোনো আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা গেছে। প্রিয়জনদের স্মৃতি বুকে আগলে বেঁচে আছে অনেকেই।

সাদুল্লাপুর উপজেলার কিশামত হলদিয়া গ্রামের স্মৃতি রাণী (২৭) ভবনধসে নিহত হন। রাণীর পরিবার জানায়, অনেক চেষ্টার পর তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়। পরিবারকে সুখে রাখতেই চাকরিতে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরেছেন লাশ হয়ে। অনুদানের পর পুনর্বাসন ও পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার কথা দিলেও আজও তা সম্পন্ন হয়নি।

একই উপজেলার দক্ষিণ ভাঙ্গামোড় গ্রামের সোনা মিয়ার স্ত্রী কামনা বেগম (২৫) ও আবদুল বারীর মেয়ে বীথি আকতার (২৩) রানা প্লাজা ভবনধসের ঘটনায় নিখোঁজ হন। ১১ বছরেও খোঁজ মেলেনি তার। তাদের পরিবার কেমন আছে কেউ এক দিনও খোঁজ পর্যন্ত নিতে আসেনি বলে জানান তারা। একই গ্রামের শ্রমজীবী ওয়াহেদ আলীর ছেলে সবুজ মিয়া (২০)। ভবনধসের ১৬ দিন পর তার লাশের সন্ধান পায় পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাওয়ার পর ১১ বছর চলে গেল। এর মধ্যে কোনো অনুদান পায়নি পরিবারটি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাতগিরি গ্রামের লাভলী আকতার (২৭) ভবনধসে বাম পা হারান। বাড়িতে এসে ছোট্ট একটা দোকান দেন। কিছুদিন পর মূলধনের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় সেটি। সরকার পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জুয়েল মিয়া বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে ওই সময় হতাহতের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত