হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যারা উত্তমরূপে কোরআন তেলাওয়াত করবে, তারা থাকবে অনুগত সম্মানিত ফেরেশতাদের সঙ্গে। আর যারা কোরআন পড়তে গিয়ে আটকে যায় এবং কষ্ট হয় তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। সহিহ মুসলিম : ৭৯৮
বর্ণিত হাদিসে সুন্দর করে তেলাওয়াতকারীর যেমন সওয়াবের কথা বলা হয়েছে, তেমনি যারা ভালো করে পড়তে পারে না তাদের তেলাওয়াতে দ্বিগুণ সওয়াবের কথা বলা হয়েছে। তাই যাদের তেলাওয়াত পুরোপুরি বিশুদ্ধ নয়, তাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং শুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোরআন মাজিদের একটি হরফ পড়বে সে ১০টি নেকি পাবে।
নবী কারিম (সা.) বলেন, দুটি জিনিস ছাড়া হিংসা বৈধ নয়। এক. আল্লাহ একজনকে কোরআন শেখার তওফিক দিয়েছেন, ফলে সে দিনরাত তেলাওয়াত করে। এটা দেখে তার প্রতিবেশী আফসোস করে বলে, সে যেমন কোরআন পড়ে আমি যদি তেমন পারতাম, তাহলে তার মতো আমিও আমল করতাম। দুই. আল্লাহ একজনকে সম্পদ দিয়েছেন, তা সে ন্যায়ের পথে খরচ করে। তা দেখে একজন বলে হায়! আমার যদি তার মতো সম্পদ থাকত, তাহলে আমিও তার মতো খরচ করতে পারতাম।
সহিহ বোখারি : ৫০২৬-৪০৩৮
আল্লাহর রাসুল এবং সাহাবায়ে কেরাম প্রচুর পরিমাণ কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তারা নামাজের বাইরে নির্দিষ্ট একটা সময় প্রত্যেকে তেলাওয়াতের জন্য রাখতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) দাঁড়িয়ে এত কোরআন তেলাওয়াত করতেন যে, তার পা মোবারক ফুলে যেত। সহিহ মুসলিম : ২৮১৯
আর এ কথা জানা যে, অসংখ্য অমুসলিম নবী করিম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের তেলাওয়াত শুনেই ইসলাম গ্রহণ করেছে।
