ডা. হাকিম নার্গিস মার্জান
অল্টারনেটিভ মেডিসিন গবেষক, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ
বহুমুখী গুণসম্পন্ন ঔষধি উদ্ভিদ তুলসী। তুলসী গাছ বায়ুম-লে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন নিঃসরণ করে বলে একে ‘অক্সিজেনের ভান্ডার’ বলা হয়ে থাকে। ট্র্যাডিশনাল অল্টারনেটিভ মেডিসিনে উদ্ভিদটি ঔষধি গুণের জন্য সুপরিচিত। ভেষজ গুণাবলির জন্য তুলসী গ্রামবাংলার মানুষের বাসা বাড়ির উঠানে, ছাদে কিংবা টবের মধ্যেও লাগিয়ে রাখতে দেখা যায়। অতিসহজে প্রাপ্ত এই ওষুধি উদ্ভিদের কদর প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে তুলসীকে ‘অমৃত’ হিসেবে আখ্যায়িত করাসহ মানুষের আয়ু বৃদ্ধি করে বলে বিবেচনা করা হয়।
কী আছে
তুলসীতে বিদ্যমান প্রধান সক্রিয় রাসায়নিক উপাদানগুলো হলো ইউজেনল, ইউজিনাল, ইউরোসোলিক অ্যাসিড, কার্বোক্সিলিক অ্যাসিড, কার্নোসিক অ্যাসিড, রোসমারিনিক অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোপানোইক অ্যাসিড, লিউটোলিক অ্যাসিড, কারভাক্রোল, অ্যাপিজেনিন, মাইরিটিনাল, লিউটিওলিন, লিনালল, লিমাট্রল, ক্যারিওফাইলিন, মিথাইল কার্ভিকল, বিটা-সিটোস্টেরল, অ্যান্তোসায়েন্স, স্যাপোনিনস, ফ্ল্যাভোনয়েডস, ট্রাইটারপেনয়েডস, ট্যানিনস, এপিজেনিন, আইসোথাইমোনিন এবং পলিস্যাকারাইডস। এ ছাড়াও এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক এবং আয়রনের মতো খনিজ পদার্থের পাশাপাশি ক্লোরোফিল এবং অন্যান্য অনেক ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে।
রোগ সারায়
তুলসীর বিভিন্ন রোগ নিরাময় বৈশিষ্ট্যের জন্য হাজার হাজার বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা তাদের দৈনন্দিন চিকিৎসাসেবায় বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করছেন। তুলসী জ্বর, কাশি, সর্দি, ফুসফুসের দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বক্ষবেদনা, মাথাব্যথা, কানব্যথা, শরীর ব্যথা ও ফোলাভাব, হাঁপানি, হাম, বসন্ত, কৃমি, ঘামাচি, রক্তে চিনির পরিমাণ হ্রাস, ব্রংকাইটিস, ম্যালেরিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম ও ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমাশয়, অজীর্ণ, পেটের ব্যাধি, প্রদাহ, চর্মরোগ, চোখের রোগ, হৃদরোগ, বাত, পোকামাকড়ের কামড়, প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া এবং বিভিন্ন ধরনের বিষক্রিয়ার চিকিৎসায়ও তুলসী ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও ক্ষতস্থানে তুলসী পাতা বেটে লাগালে ক্ষতস্থান দ্রুত সেরে যায়। তুলসীর ক্যানসারবিরোধী, ফাঙ্গাসবিরোধী, অণুজীবনাশক, প্রদাহনাশক, আলসার প্রতিরোধক গুণাবলি রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে তুলসী ভেষজ চা হিসেবে সুদীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিয়মিত তুলসী পাতার রস সেবনে একদিকে যেমন প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব, অন্যদিকে এটি অকাল বার্ধক্যও প্রতিরোধ করে।
বহুমুখী ভেষজ গুণাবলির জন্য বিভিন্ন ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক ফর্মুলেশনে তুলসী ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন শরবত তুলসী, সিরাপ মিসালি, আরক মাউল হায়াত, খামিরা গাওজবান, খামিরা গাওজবান আম্বরি জাওয়াহিরদার, সফুফ মন্দামিল, সফুফ মুন্ডি, সফুফ তীন এবং কুরছ সুরফিন ইত্যাদি।
