অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ পাঁচ জেলায় স্কুল বন্ধ

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:২৬ এএম

এক দিনের ব্যবধানে আবারও দেশ জুড়ে তাপপ্রবাহ বেড়েছে। এ কারণে আবারও তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চলতি মাসে চারবার আবহাওয়ার এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হলো। এদিকে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ঢাকা, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও খুলনায় সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ সোমবার বন্ধ থাকবে। গতকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এমএ খায়েরের গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা ও রাজশাহী জেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ সোমবার বন্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ চাইলে খোলা রাখতে পারবে।

দেশ জুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিতে সপ্তাহব্যাপী ছুটি শেষে গতকাল স্কুলে ফেরে শিক্ষার্থীরা। তবে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে দেখা গেছে দুশ্চিন্তা। তাপপ্রবাহের এমন পরিস্থিতে স্কুল খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গতকাল সকালে সাংবাদিকদের বলেন, কোনো কোনো জেলায় যদি তা অসহনীয় পর্যায়ে যায়, সেখানে বিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা করে সেই জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারেন।

কোনো জেলায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি বা তারও বেশি হলে করণীয় বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেটি তারা সমন্বয় করেন। এলাকাভিত্তিক যদি ৪২ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা যায়, তাহলে সেখানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন, তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা করে সেই জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারেন এবং সময়সীমাও পরিবর্তন করতে পারেন। এটা অঞ্চলভেদে।

ঢাকায় ইতিমধ্যে কয়েকটি স্কুল বন্ধ ঘোষণার খবর পাওয়া গেছে। যার মধ্যে রয়েছে উত্তরার রাজউক স্কুল অ্যা- কলেজ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের ৪৪ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কিছু জেলায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়েছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই অবস্থা এ অঞ্চলের অন্য জেলাগুলোতেও খুলনায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ ডিগ্রি, মোংলায় ৪১, সাতক্ষীরায় ৪১ দশমিক ১, চুয়াডাঙ্গায় ৪১ দশমিক ৮ এবং কুমারখালীতে ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে রাজধানীতেও এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রাজধানীতে গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত শনিবারের চেয়ে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৬২ শতাংশ। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও বলছে, জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে এ সময় অস্বস্তি বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে গরম বেশি অনুভূত হয়। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৬০ শতাংশের যত বেশি হবে, গরমের তীব্রতাও বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তিনি বলেন, এখন যে পরিস্থিতি, তাতে এ মাসে তাপমাত্রা খুব বেশি পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ নেই। অন্তত আগামী দুদিন তাপমাত্রা এ রকমই থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এ সময় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

মুন্সীগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে গরমে অজ্ঞান শিক্ষার্থী : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে প্রচ- গরমে শ্রেণিকক্ষে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে সুমি আক্তার (১৪) নামে এক শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার হাসাইল-বানারী ইউনিয়নের বানারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বানারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কায়েসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ফরিদপুরের সালথায় ১৩ শিক্ষক-শিক্ষার্থী অসুস্থ : ফরিদপুরের সালথায় তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে একটি বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি পান করে ৩ শিক্ষক ও ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অসুস্থদের মধ্যে এক শিশুসহ তিন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পরে খবর পেয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সালথা থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, পানি পান করে নয়, গরমে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, গতকাল স্কুল খোলার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সকালে স্কুলে এসে টিউবওয়েলের পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন সবাই মোটামুটি সুস্থ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত