দিনাজপুরের বিরল উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট গণনার পর দুই সদস্য (মেম্বার) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে পুলিশের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চৌরঙ্গীবাজার এলাকায় সিঙ্গুল হামিদ-হামিদা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ আলী কাচুয়া (৬৫) উপজেলার সিঙ্গুল ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মাবুদ বক্সের ছেলে। তিনি নির্বাচনে বিজয়ী ইউপি সদস্য প্রার্থী (টিউবওয়েল) জোবায়দুর রহমানের চাচা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজিমপুর ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণনা শেষ হয়। এ সময় ইউপি সদস্য প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ও জোবায়দুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ উত্তেজনা থামাতে চেষ্টা করে। এরই মধ্যে উত্তেজিত লোকজন ভোটকেন্দ্রে ও পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পুলিশ তখন প্রথমে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশের ছোড়া গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মেম্বার প্রার্থী জোবায়দুর রহমানের চাচা মোহাম্মদ আলী। উদ্ধার করে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছিল। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা তাদের ফলাফলে সন্তুষ্টও হয়েছেন। কিন্তু দুই সদস্য প্রার্থী ফল মেনে না নেওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে উত্তেজিত সমর্থকরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। তখন নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে ফিরে আশ্রয় নিলে সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রেও হামলা চালায়। পুলিশ তখন আত্মরক্ষার্থে ৬০ থেকে ৭০টি গুলি ছোড়ে। এ সময় এক বৃদ্ধের শরীরে গুলি লাগে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। পুলিশের কয়েক সদস্যও আহত হয়েছেন।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানে আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ, বিরল ও আজিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ছিল গতকাল। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আজিমপুরে লিটন আলী, ফরক্কাবাদে হুসেন আলী ও বিরলে মারুফ হাসান নির্বাচিত হন।
