সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংলাপের জন্য তিন প্রতিনিধি ইমরানের

আপডেট : ০১ মে ২০২৪, ০৬:৩৪ এএম

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান দেশের প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করতে তিনজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। পাঞ্জাবের আদিয়ালা কারাগারে সংবাদমাধ্যমকে গত সোমবার তিনি এ কথা জানান। গত সপ্তাহ থেকেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইমরানের দলের সম্ভাব্য সংলাপ নিয়ে আলোচনার গুঞ্জন চলছিল।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ‘এস্টাবলিশমেন্ট’ তথা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করতে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর, কেন্দ্রীয় আইনসভার বিরোধী নেতা ওমর আইয়ুব খান এবং পিটিআইয়ের আরেক নেতা শিবলি ফারাজকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান ওই কথা জানান। এর মধ্য দিয়ে ইমরানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর বিরোধ মেটার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

পিটিআই কি এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করছে এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এজন্য আলি আমিন, ওমর আইয়ুব ও শিবলি ফারাজকে নিয়োগ করেছি।’ গত কয়েক দিন আগে একটি আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, ইমরান খান যেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক কোনো বক্তব্য না দেন।

সেনাবাহিনীবিদ্বেষী ও আদালতবিরোধী বক্তব্য না রাখার নির্দেশ প্রসঙ্গে আদিয়ালা কারাগার থেকে গত সোমবার ইমরান বলেন, তিনি কখনো রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অশ্রদ্ধা পোষণ করেননি।

ওই নির্দেশ দেওয়ার কয়েক দিন পর ইমরান খানের দলের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর যোগাযোগের বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় আসছে। বিষয়টি গত সপ্তাহ থেকেই বেশ জোরালো আলোচনা তৈরি করেছে। তার দলের এক শীর্ষ নেতা এই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ওই সময় ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের নেতৃত্বাধীন সরকার গোটা বিষয়টিকেই ইমরান খানের দ্বৈতনীতির প্রতিফলন আখ্যা দিয়েছে।

পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতা শাহরিয়ার আফ্রিদি গত শুক্রবার বলেন, তার দল প্রয়োজনে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সঙ্গে নয়; বরং সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করবে।

পিটিআই নেতার ওই বক্তব্যকে কোনো কিছুর ইঙ্গিত মনে করছে ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধান ভরকেন্দ্র পিএমএল-এন এবং অন্য শরিকরা। পিএমএল-এন নেতা খাজা সাদ রফিক বলেছিলেন, পিটিআইয়ের বেসামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কথা মূলত নাটক। গোটা ব্যাপার ইমরান খানের প্রথাগত আচরণের প্রতিফলন, যেখানে তার এক হাত তাদের (সামরিক বাহিনী) গলায় এবং আরেক হাত থাকে তাদের পায়ে।

পিএমএল-এনের আরেক শীর্ষ নেতা রানা সানাউল্লাহ বিষয়টিতে আরও গভীর কিছুর ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করেন। তার ভাষ্য ছিল এরকম, পিটিআইয়ের মনোভাব রাজনৈতিক কিছু নয়; বরং তারা এস্টাবলিশমেন্টকে দিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চায়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারের সবচেয়ে বড় অংশীদার পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) ফয়সাল করিম কুন্দি বলেন, পিটিআই এস্টাবলিশমেন্টকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে ডেকে আনছে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, গত নির্বাচনে পিটিআইয়ের প্রতীকবিহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইমরানকে নির্বাচনের আগে একের পর এক সাজা দেওয়ার ঘটনায় সামরিক বাহিনীর হাত ছিল। আর ক্ষমতা হারানোর জন্য সেনাবাহিনীকে বারবার দায়ী করেছেন ইমরান। এখন দলটির কোনো কোনো নেতার দিক থেকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলাপের ইচ্ছাপ্রকাশ বড়ই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত