কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জের হাওরগুলোতে ধান কাটার ধুম পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতি ও ধান কাটার ঝক্কি এড়াতে দিনরাত কৃষকরা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাপপ্রবাহের মধ্যে বেশি মজুরিতে শ্রমিক নিয়ে কৃষকরা ধান কাটছেন। অনেকে দ্রুত ধান কাটতে ব্যবহার করছেন কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরগুলোতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে। ৯ লাখ কৃষক বোরো ধানের আবাদ করেছেন। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হলেও এরই মধ্যে কোনো কোনো স্থানে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আতঙ্ক নিয়ে ধান কাটছেন কৃষকরা। ভারী বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলহানির ঝুঁকি এড়াতে হাওরের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলার মধ্যে ৮ উপজেলার ১২৩টি ছোট-বড় হাওরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কোনো কোনো হাওরে ১ বৈশাখ থেকেই ধান কাটা শুরু হয়। কৃষকরা জানান, হাওরে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। টানা বৃষ্টি শুরু হলে কিংবা ঢল নামলে তাদের স্বপ্নের ফসল তলিয়ে যাবে। এ কারণে তারা দ্রুত ধান কাটছেন।
কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, ধান কাটতে হাওরের বেশ কয়েকটি উপজেলায় কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন নামানো হয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত হাওরের ৮০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি খামারবাড়ির উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার জানান, এ বছর জেলার হাওরগুলোতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার অন্য এলাকায়ও ফলন ভালো হয়েছে। ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ৭০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃষক হানিফ মিয়া বলেন, প্রচন্ড গরমেও হাওরে রাতদিন ধান কাটা হচ্ছে। হারভেস্টর মেশিনে অল্প সময়ের মধ্যেই ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৬৫ টন।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়া জানান, ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আগামী ১৫ দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরোতে লোকসান গুনতে হবে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে বাহুবল, লাখাই, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দল বেঁধে নারী-পুরুষরা কাস্তে হাতে ধান কাটছেন। কোনো কোনো স্থানে কম্বাইন্ড হারভেস্টরসহ বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটা হচ্ছে। কৃষকরা জানান, আগাম ও হাইব্রিড জাতের ধান কাটা শেষের পথে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের অতিরিক্ত উপপরিচালক বনি আমিন খান গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাওর এলাকায় প্রায় ৬০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আর হাওরের বাইরের এলাকায় ধান কাটা শেষ হতে আরও ১৫ দিন লাগবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি।
