রেকর্ড তাপমাত্রায় জনজীবনের ভোগান্তির মধ্যে গাছ কাটা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
তিনি জানান, বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে আজ রবিবার (৫ মে) আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। আগামীকাল সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। রিট আবেদনে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তণ বিষয়ক সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ সচিব, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদে বিবাদী করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, রিট আবেদনে গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে ৭ দিনের মধ্যে পরিবেশবাদী সংগঠন, পরিবেশ বিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এই কমিটি পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের নিমিত্তে ঢাকায় গাছ কাটার অনুমতি দেবে। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সাতদিনের মধ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা পরিবেশ অফিসার, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি/সেক্রেটারি এবং সিভিল সার্জন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে স্থানীয় কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলির সমন্বয়ে কমিটি গঠন হবে। এসব কমিটির অনুমতি ছাড়া যাতে গাছ কাটা না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।
আবেদনের বরাতে আইনজীবী বলেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ঢাকা শহরে যে পরিমাণ গাছপালা থাকা দরকার তা দিন দিন কমছে। সাম্প্রতিকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে যার কারণে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অন্যদিকে সামাজিক বনায়ন চুক্তিতে সারা দেশে লাগানো গাছগুলো কেটে ফেলার কারণে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে যা বন্ধ না হলে বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে ও মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, গাছ কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, ঢাকা শহরসহ অন্যান্য জেলা এবং উপজেলা শহরে গাছ কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং সামাজিক বনায়ন বিধিমালা, ২০০৪ এর বিধানে গাছ লাগানোর চুক্তিভুক্ত পক্ষকে অর্থ প্রদানের বিধান সংযুক্ত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলের আরজি জানানো হয়েছে।
মিল্টন সমাদ্দারের অ্যাকাউন্টে কত টাকা, জানাল ডিবি
মানুষের হাত-পা কেটে পৈশাচিক আনন্দ পেতেন মিল্টন সমাদ্দার: ডিবি প্রধান
চিকিৎসার নামে ব্লেড দিয়ে অপারেশন করতো মিল্টন সমাদ্দার
সুন্দরবনে আগুন, ভাটার কারণে পানির সংকট বাড়তে পারে