উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর এখন প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় তুঙ্গে। আবার কিছু কারণে পরিবেশ হয়ে উঠেছে উত্তপ্ত। ভোটে অংশ নেওয়া চেয়ারম্যান পদে এখানে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দুজনই বর্তমান সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। অনেকে এই দুজনকে বর্তমান এমপির দুই খলিফা হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।
এদের একজন আনারস প্রতীকের হাজি আবদুল মাজেদ খান। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এ ছাড়া জনপ্রতিনিধি হিসেবে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের একাধিকবারের চেয়ারম্যান। তার প্রধান প্রতিপক্ষ নিজ দলের অন্যতম নেতা কাপ-পিরিচ প্রতীকের সায়েদুল ইসলাম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সম্পর্কে আবার হাজি আবদুল মাজেদ খান সায়েদুল ইসলামের উকিল শ^শুর। কিন্তু ভোটের মাঠে একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় আত্মীয়তার সম্পর্কে চলছে টানাপোড়েন। উভয়ের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দুয়েকটি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় নির্বাচনী পরিবেশ অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে।
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ১৫ বছরের রাজত্ব হাতছাড়া হয়ে গেছে। সেই স্থান দখল করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু। এ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুজনই গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর পক্ষে কাজ করেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ দুজন প্রার্থী হওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য জাহিদ আহমেদ টুলু।
অন্যদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম নিশ্চুপ থাকার কারণে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
নির্বাচনী এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পক্ষ-প্রতিপক্ষের দ্বন্দ্ব। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদটি এখনো সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের হাতে। তাছাড়া তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শহিদ মমতাজ বেগমের সাবেক স্বামী প্রয়াত রশিদ বয়াতির ভাগ্নে। কমিটিতে বেশিরভাগই রয়েছে মমতাজ অনুসারী। তাছাড়া সিংগাইর পৌরসভার বর্তমান মেয়র মমতাজ বেগমের সৎ ছেলে। মোটকথা সিংগাইরের পদধারী নেতার একটা অংশ এখনো মমতাজের অনুসারী। আগামী ৮ মে প্রথম ধাপে সিংগাইর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মমতাজ বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। যে কারণে তার অনুসারীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দলীয় কর্মসূচিতে মমতাজ বেগমকে না পেয়ে অনেকের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
মাজেদ-সায়েদুল দুজনেই সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর প্রার্থী বলে দাবি করেছেন। এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তৃতীয় জন আবদুল হাকিম। তিনি একাধিকবার জামির্ত্তা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ইতিপূর্বে সুযোগ বুঝে চেয়ারম্যান হওয়ায় জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ক্ষমতার স্বাদ নিয়েছেন। নির্বাচনে তাকে নিয়ে তেমন একটা সাড়া-শব্দ নেই।
