গাছ লাগানো ও গাছ কাটার বিষয়ে পরিবেশবান্ধব আইন, নীতিমালা বা বিধিমালা প্রণয়নের প্রশ্নে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, গাছ লাগানো ও কাটার ক্ষেত্রে নীতিমালা বা আইন তৈরিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে নাÑ রুলে সে কথাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষক, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।
ব্যারিস্টার তানভীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং গাছ কাটা ও লাগানোর বিষয়ে পরিবেশবান্ধব আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ জানিয়ে ২ মে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসের জবাব না পাওয়ায় জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক বিবেচনায় দেশে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আছে এর অনেক কম। মাত্র ৯ শতাংশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই কুষ্টিয়ায় ৩ হাজার গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমালোচনার মুখে অবশ্য সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। তাপপ্রবাহের অন্যতম কারণ বনভূমি কম থাকা বা কমে যাওয়া। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রকৃতিতে। তাপপ্রবাহসহ নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এরপরও প্রকৃতিকে রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। নীতিমালা বা আইন না থাকায় যত্রতত্র গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। অথচ রোপণ হচ্ছে কম। শুনানিতে এসব বিষয় তুলে ধরেছি। হাইকোর্ট রুল দিয়েছে।’
