সন্ত্রাসীদের আনাগোনায় আতঙ্কে প্রার্থী-ভোটার

আপডেট : ০৭ মে ২০২৪, ০৬:৪৯ এএম

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আনাগোনার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। এ উপজেলায় ভোট আগামী ২১ মে।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা দাগি সন্ত্রাসীরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে কেউ পুলিশের খাতায় চিহ্নিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, কয়েক দিন আগে মগনামা ইউনিয়নে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে চিহ্নিত অস্ত্রধারী ও ডজনখানেক মামলার আসামি আশফাকুল হক লিটন। 

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়ায় যে কোনো নির্বাচন এলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দাগি অপরাধীরা তৎপর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে চায় দাগি অপরাধীরা। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের তালিকাভুক্ত দাগি অপরাধী আশফাকুল হক লিটন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তৎপর হয়ে উঠেছে। লিটনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানাসহ বিভিন্ন আদালতে প্রায় ডজনখানেক মামলা বিচারাধীন। মহেশখালী ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লিটনের রয়েছে দারুণ সখ্য। পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লিটনসহ অন্তত দুই ডজন দাগি অপরাধী বর্তমানে পেকুয়ার আনাচে-কানাচে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এ কারণে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী আশফাকুল হক লিটনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ২০১৬ সালে পেকুয়ার টইটং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তিন দিন আগে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহীদুল্লাহকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।  প্রতিবারই কোনো নির্বাচন এলে প্রার্থীরা অপহরণ আতঙ্কে ভোগেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, পেকুয়া উপজেলার সন্ত্রাসকবলিত অন্যতম এলাকা মগনামা ইউনিয়ন। বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এ এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও সন্ত্রাসীরা তৎপর হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে পুলিশের তালিকাভুক্ত ও বিভিন্ন মামলায় জামিনপ্রাপ্ত প্রায় দেড় ডজন সন্ত্রাসী। নির্বাচনী প্রচার সন্ত্রাসীনির্ভর হয়ে যাওয়ায় এখানকার দুর্বল প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। এলাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা। এদের মধ্যে মারামারি, অপহরণ, চুরি-ছিনতাই, হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মতো মামলার আসামিরা রয়েছে।

এদিকে পেকুয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও তারা ঘটাচ্ছে নানা অঘটন। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ এমন অপকর্ম নেই যা তারা করছে না।

পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাছির উদ্দিন বাদশা অভিযোগ করেন, এসব অপরাধী কতিপয় প্রভাবশালী প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পেকুয়ার চিহ্নিত দাগি অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

পেকুয়া থানার ওসি মো. ইলিয়াছ বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় সন্ত্রাসীরা যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। প্রতি রাতেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

পুলিশের চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রকীব উর-রাজা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে দাগি অপরাধী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত