ঢাবি শিক্ষকের পিএইচডি জালিয়াতি তদন্তে কমিটি

আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ০৬:২৩ এএম

এমফিলের থিসিস নকল করে পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নিয়মিত সভায় তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভাটি হয়।

মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে পিএইচডি অভিসন্দর্ভ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে প্রধান করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছিরকে। এ ছাড়াও সদস্য হিসেবে আছেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর রশীদ খান এবং তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম জাবেদ আহমদ। এই কমিটিকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গতকাল ‘তত্ত্বাবধায়ককে বাধ্য করে ঢাবি শিক্ষকের পিএইচডি আদায়’ শিরোনামে দেশ রূপান্তরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি বেশ আলোচিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে গবেষণানীতি অমান্য করে একই গবেষণাপত্র এমফিল ও পিএইচডিতে ব্যবহার করার প্রমাণ রয়েছে। শিরোনাম পাল্টে আগের অংশ পরে এবং পরের অংশ আগে উল্লেখ করে একই লেখা দিয়ে দুটি ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। রেফারেন্স ছাড়া অন্যের লেখা ব্যবহার করে যেমন প্ল্যাজিয়ারিজম (চৌর্যবৃত্তি) করেছেন, তেমনি নিজের লেখায় ব্যবহৃত উদ্ধৃতি-কবিতা-বক্তব্যের উল্লেখ না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে যা ছিল তার এমফিল থিসিস তা অনেকাংশেই তার পিএইচডি থিসিস। এক পরিশ্রমে দুটি ডিগ্রি! ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন তিনি দ্রুততম সময়ে লেকচারার থেকে হয়েছেন অধ্যাপক।

এদিকে ঢাবির দুই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি। সিন্ডিকেট অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে পাঠিয়েছে। সেল বিষয়টি দুই মাসের মধ্যে তদন্ত করে সিন্ডিকেটে প্রতিবেদন জমা দেবে।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে আনা এক ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। অভিযোগটি যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে পাঠানো হয়েছে।

এই দুই শিক্ষককেই অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত