বিশ্বযুদ্ধের নিষিদ্ধ অংশে মার্কিন সেনা  

আপডেট : ০৯ মে ২০২৪, ১২:৫২ এএম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে মিত্র বাহিনীর অবতরণের পর দুই মার্কিন সেনার হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এমি ডুপ্রির মা। ১৯৪৪ সালের আগস্টের ওই পৈশাচিক ঘটনার ৮০ বছর পর আসন্ন ভিক্টরি ডে’র আগে এমি একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে শুনিয়েছেন তার মায়ের ওপর হয়ে যাওয়া সেই নির্যাতনের ঘটনা। 

ইউরোপে নাৎসি জার্মানির দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে ওই বছর জুনে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন, ব্রিটিশ, কানাডীয় ও ফরাসি সেনা নরম্যান্ডি উপকূলে অবতরণ করেছিল। এমির তখন ১৯ বছর বয়স। থাকেন নরম্যান্ডির পাশের ব্রিটানি অঞ্চলের মোনতুর নামের এক গ্রামে। মিত্রবাহিনীর সেনারা আসায় আশপাশের সবার মতো তিনিও উজ্জীবিত হয়ে ছিলেন। কিন্তু তার আনন্দ উবে যেতে বেশি সময় লাগেনি। ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় দুই মার্কিন সেনা তাদের পারিবারিক খামারে হাজির হয়।

বর্তমানে ৯৯ বছর বয়সী এমি আন্তর্জাতিক এক বার্তা সংস্থাকে বলেন, তারা মদ্যপ ছিলেন আর একজন নারী খুঁজছিলেন। এমি তার মার লেখা একটি চিঠি দেখান। তার মার নামও ছিল এমি, এমি হেলোদাইসো হেনোরে। তার মা লিখেছেন, কিছুই ভুলে যাওয়া হয় না। পরিষ্কার হাতের লেখায় এমি হেনোরে ওই রাতের ঘটনা তুলে ধরেছেন। বলেছেন কীভাবে ওই মার্কিন সেনারা তার স্বামীর দিকে গুলি ছোড়ে আর তাতে তার মাথার টুপিতে গর্ত হয়ে যায়, তারপর তারা আতঙ্কজনকভাবে তার তরুণী কন্যার দিকে এগোতে থাকে। কন্যাকে রক্ষা করার জন্য তিনি মার্কিন সেনাদের সঙ্গে নিজেই যেতে রাজি হন। হেনোরে লিখেছেন, তারা আমাকে একটি মাঠে নিয়ে যায় আর ধর্ষণ শুরু করে, প্রতিজন চারবার করে। মায়ের লেখা চিঠি পড়তে পড়তে এমির গলা ধরে আসে।

ওই সময় এই একটি ঘটনাই ঘটেছিল এমন নয়। ১৯৪৪ সালের অক্টোবরে নরম্যান্ডির যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর মার্কিন সামরিক কর্র্তৃপক্ষ ফরাসি নারীদের ধর্ষণ করার জন্য তাদের বাহিনীর ১৫২ জন সেনাকে বিচারের মুখোমুখি করেছিল। তবে সত্যি হচ্ছে ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৬ সালে মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্রান্সে শত শত বা হাজার হাজার ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান মার্কিন ইতিহাসবিদ মেরি লুইস রবার্টস। এই ঘটনাকে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি নিষিদ্ধ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। এসব ঘটনা নিয়ে হাতেগোনা যে কয়েকজন গবেষণা করেছেন তিনি তাদের একজন। তিনি বলেন, অনেক নারী চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ধর্ষণের সঙ্গে লজ্জার বিষয়টি জড়িত ছিল। তিনি জানান, সব জায়গায় আমেরিকানদের জয় নিয়ে এত উল্লাস ছড়িয়ে ছিল যে তার সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা খাপ খাচ্ছিল না, তাই তাদের পক্ষে এ নিয়ে কিছু বলা কঠিন হয়ে উঠেছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত