আরও একবার বিতর্ক আর উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ দেখল সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিদায় যখন প্রায় নিশ্চিত, তখনই বদলী নামা আসা হোসেলু মাতো দেখালেন জাদু। ৮৮ ও ৯১ মিনিটে করা দুগোলে দ্বিতীয় লেগ ২-১ (দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩) ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে রিয়াল।
কিন্তু হোসেলু মাতোর জোড়া গোল ভেস্তে যেতে পারত শেষের নাটকে। ম্যাথিয়াস ডি লিখট প্রতি আক্রমণে বায়ার্নের হয়ে বল জালে জড়িয়েছেন। সেটা গোল হতেও পারত, তবে লাইন্সম্যান আগেই তুলেছেন অফসাইডের পতাকা। পোলিশ রেফারি মার্সিনিয়াক ভিএআর চেক করতে গিয়েও শেষমুহূর্তে গোল চেক করতে গিয়েও যাননি। ৫ সেকেন্ডের ওই নাটককে নিজেদের বিদায়ের জন্য দায় দিচ্ছেন বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়-কোচ থেকে শুরু করে ভক্তরাও।
এমনকি ম্যাচশেষে লাইন্সম্যান ক্ষমাও চেয়েছেন ডি লিখটের কাছে। তাই একটা কিছু ভুল ছিল, সেটা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু বার্নাব্যুর উত্তাল সেমিফাইনালে ভুল কী ছিল? ঠিকই বা কে? বায়ার্ন মিউনিখ কি সত্যিই অবিচারের শিকার হয়েছে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে?
কী হয়েছিল বায়ার্নের সাথে?
৯ মিনিটের অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে খেলা চলছে ১৩ মিনিটে। জশুয়া কিমিচের বাড়ানো বল রিসিভ করেন মরোক্কান ডিফেন্ডার নুসেইর মাজরাউই। তিনি বল পায়ে পাওয়ার পরেই লাইনসম্যান লিসকেউইৎজ ফ্ল্যাগ তুলে দেন। এরপরেই হাল ছেড়ে দেন রিয়ালের দুই ডিফেন্ডার অ্যান্টোনি রুদিগার এবং কামাভিঙ্গা। কিন্তু মাজরাউই বল বাড়ান টমাস মুলারের দিকে। তার হেড থেকে ভলিতে গোল করেন ম্যাথিয়াস ডি লিট।
গোলের পরই অফসাইড চেক করার জন্য আবেদন জানান বায়ার্নের খেলোয়াড়রা। পোলিশ রেফারি সাইমন মার্সিনিয়াক নিজেও ছুটেছিলেন ভিএআরের দিকে। তবে শেষ সেকেন্ডে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু কেন?
মূলত লাইনসম্যান অফসাইডের সংকেত দেন মাজরাউই বল পাওয়ার পরেই। নিয়ম অনুযায়ী, সেখানেই ম্যাচ শেষ। ডি লিখটের বল যখন জালে জড়িয়েছে, তখন প্লে-অন ছিল না। যার ফলে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সেটা কখনোই ভিএআর যাচাইয়ের উপযুক্ত না।
লাইনসম্যানের সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল?
প্রশ্নটা যদি করা হয় লাইনসম্যানের সিদ্ধান্ত নিয়ে। তবে বড় রকমের ধাক্কা খেতেই হবে বায়ার্নের ভক্তদের। ভিএআর চেক না করা হলেও সেমি-অটোম্যাটেড প্রযুক্তির মাধ্যমে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সেই সময়ের ফুটেজ নিয়ে এসেছে টিএনটি স্পোর্টস এবং বিইন স্পোর্টস। তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট, বল যখন দেয়া হচ্ছিল, সে সময় মাজরাউই অফসাইডে ছিলেন না। তবে গোলদাতা ডি লিখট অফসাইড কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। অ্যান্টোনিও রুডিগারের বাড়ানো হাত এবং ডি লিখটের মাথা প্রায় একই সমান্তরালে ছিল।
লাইন্সম্যান যে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বড় রকমের ভুল করেছিলেন, এতে তাই সন্দেহ থাকছে না। ডি লিখটের দাবি, লাইনসম্যান ঘটনার জন্য তার কাছে দুঃখ প্রকাশও করেছিলেন, ‘লাইনসম্যান আমাকে বলেছেন দুঃখিত, ভুল করেছি।’
এমন ঘটনা লজ্জার জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, অফসাইড নিশ্চিত না হলে...খেলা চালিয়ে যেতে হবে। আর শেষ মিনিটে এভাবে বাঁশি বাজানো, আমার মনে হয় এটা বড় ভুল। অফসাইড হয়েছে কি না, আমি জানি না, সেটা ভিএআর পরীক্ষা করতে পারে। কিন্তু এটা (অফসাইড) পরীক্ষা করে না দেখলে বুঝলেন কীভাবে? এটা লজ্জার।’
খেলা কেন বন্ধ করা হয়েছিল?
২০১৬ সালে ভিএআর আসার পর থেকেই নিয়ম অনুযায়ী, লাইনসম্যান সম্ভাব্য অফসাইডের ক্ষেত্রেও খেলা চালিয়ে যাবেন। বল যতক্ষণ খেলার মাঝে থাকবে, ততক্ষণই খেলা চলতে থাকবে। গোল হলে বা বল গোললাইন অতিক্রম করলে জানানো হবে অফসাইডের সিদ্ধান্ত। এরপরেই আপত্তির সাপেক্ষে, গোল হলে সেটা চেক করবেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি এবং মাঠে থাকা রেফারি।
কিন্তু গতকাল মাজরাউই বল রিসিভ করার পরেই লাইনসম্যান লিসকেউইৎজ অফসাইডের সংকেত দিয়ে বসেন। যার কারণে ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না মার্সিনিয়াকের জন্য।
হোসেলুর গোলের সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল?
রিয়াল মাদ্রিদের গোল নিয়েও যে বিতর্ক নেই তা নয়। হোসেলুর গোলটাও বৈধতা পেয়েছিল ভিএআর যাচাইয়ের মাধ্যমে। কিন্তু, হোসেলুর সেই গোল কেন বৈধ? উত্তরটা সহজ, রিয়ালের এই ফরোয়ার্ড বল পেয়েছিলেন দ্বিতীয় পাস হিসেবে। মাঝমাঠ থেকে রুডিগারের উদ্দেশ্যে বল বাড়ানোর সময় তিনি অফসাইডে থাকলেও, রুডিগার বক্সের ভেতরে গিয়ে যখন মাইনাস করেন, তখন হোসেলু অনসাইডেই ছিলেন।
