স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, অনেকে আমাদের দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলেন। আমাদের গণতন্ত্রকে আফহোল্ড করতে কাজ করার ব্যাপারে আমরা অবশ্যই কমিটেড। কিন্তু আপনি যদি আমাদেরকে ইউরোপের গণতন্ত্রের সাথে তুলনা করেন যারা কোনো বাধা ছাড়াই শত শত বছর গণতন্ত্র চর্চা করেছে, এটা কোনো সঠিক তুলনা হতে পারে না।
তিনি বলেন, ২০ বছরের সামরিক শাসন বাদ দিলে আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা ত্রিশ বছরের বেশি নয়। সুতরাং ২০০ বছরের সাথে ৩০ বছরের তুলনা কখনো হয় না। আমরা আস্তে আস্তে এগোচ্ছি। না আগালে আমাদের এতো পরিবর্তন আসতো না।
শনিবার (১১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 'ইয়ুথ লিডারশীপ স্কিলস ফর স্মার্ট বাংলাদেশ' শীর্ষক এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেন অ্যাকশনিস্ট ফাউন্ডেশন। সিম্পোজিয়ামের শুরুতে 'লিডারশীপ স্কিলস ফর স্মার্ট বাংলাদেশ' শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মো. আসিফ হোসাইন খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাজুল ইসলাম বলেন, ২০৪১ সালে আমাদের যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি সেটি করতে হলে আমাদের পার ক্যাপিটাল ইনকাম সাড়ে বারো হাজার ডলার লাগবে। সিঙ্গাপুরে বর্তমানে এটি দেড় লাখ ডলার। তারা কীভাবে এটি করেছে? সেটা হলো কমিটমেন্ট। যারা এই কমিটমেন্ট বা ট্র্যাক লাইনের বাইরে গেছে তারা তাদের বিরুদ্ধে কঠিনভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে। তাই পিক অ্যান্ড চয়েজ কোনো আইন হতে পারে না।
আপনার ভাতিজাকে দেখলে ছেড়ে দিবেন আর আরেকজনকে দেখলে জেলে দিবেন এগুলোর মাধ্যমে কাজ হবে না, যোগ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য কাজ করছি। সবাইকে কাজ করতে হবে। সারা পৃথিবীর মানুষ উন্নত হচ্ছে ইনশাল্লাহ আমরা উন্নত হবে। আর যদি না হই তাহলে এটির জন্য আমরা সবাই দায়ী। অপরচুনিটিতে আমাদের কোনো ড্রব্যাক নেই। জাপানে কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ নেই যেটা তাদের অর্থনীতিকে চাঙা করবে। কিন্তু তারপরও তারা আজ কত উন্নত। আমাদের ত কিছুটা হলেও সম্পদ আছে। সুতরাং আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
শুধু সমালোচনা না করে ভালো কাজের প্রশংসাও করার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু সমালোচনাই করি সে এটা করে নাই, ওটা করে নাই। কিন্তু হাজার-লাখ কাজ তো হয়েছে। সেটার কথাও বলেন। তবে অবশ্যই ব্যর্থতা আছে। আপনি আমাকে পরামর্শ দেন, মাননীয় মন্ত্রী এটা হওয়া উচিত ছিল। দ্যান আই কোড ডু। আই উইল বি অ্যাওয়ার।
তিনি বলেন, যদি আমার শুধু সমালোচনাই করা হয় আমি যে অনেক ভালো কাজ করেছি সেটা যদি একবারও স্বীকার না করা হয় তাহলে আমার মনোবল ভেঙে যাবে। সুতরাং ভালো কাজের প্রশংসা না করে শুধু সমালোচনা করলে আমরা ধরে নিবো আপনি দেশের জন্য কাজ করছেন না। আপনি শুধু কিছু সেন্টিমেন্ট পেতে কাজ করছেন, যেটি কারও জন্যই ভালো না।
তাজুল ইসলাম বলেন, আমি আমার জীবনের শুরুতে চায়নাতে গিয়েছি। তখন দেখেছি এই বেইজিং ছিলো সে সময় সিটি অব স্লাম। কিন্তু আজকে সেই শহর কত সুন্দর আর পরিপাটি। তাদের প্রতিটি মানুষ নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে। আমরা কি সেখান থেকে শিক্ষা নিবো না? আমরা কি শুধু একটাই শিখেছি যে শুধু গালি দিবো?
মন্ত্রী বলেন, আমাদের সবার মাঝে অফুরন্ত সম্ভাবনা আছে। আইনস্টাইন নাকি শুধু তার ৫ শতাংশ ব্রেন ব্যবহার করেছে। আমরা তো পয়েন্ট এক শতাংশও ব্যবহার করিনি। সুতরাং আমরা কেন নিজেদের এই সুপ্ত সম্ভাবনাকে ব্যবহার করছি না? আমাদের নিজেদের এই সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে দেশের কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে হবে।
