এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে সড়ক হলো ‘নদী’

আপডেট : ১১ মে ২০২৪, ০৬:৪০ পিএম

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় এক ঘণ্টার ভারি বর্ষণে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্নস্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এই সড়কে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। যে কারণে সড়কটির ইউনিক থেকে জামগড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকাটি নদীতে পরিণত হয়েছে। চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি খানাখন্দ যুক্ত সড়কটিতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিন শনিবার সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় গিয়ে দীর্ঘ যানজটের চিত্র দেখা গেছে। এ সময় রিকশা নিয়ে শাখা সড়ক দিয়ে ইউনিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানি সড়ক ছাপিয়ে ঢুকে পড়েছে রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও এই অবস্থা থেকে উত্তরনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। মাঝে মধ্যে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ মেশিন দিয়ে পানি সেচার ব্যবস্থা করলেও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু পরই বৃষ্টিতে সড়কটি পানির নিচে চলে যায়।

রিকশাচালক শাহআলম বলেন, বৃষ্টিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। একবার যদি মোটরে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে ৮ হাজার টাকা জরিমানা লাগে। এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে রিকশা চালাতে হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক সোহেল রানা বলেন, সারাবছরই বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কটি পানিতে তলিয়ে থাকে। শনিবার সকালে বৃষ্টির কারণে সড়কের কোথাও কোথাও হাঁটু পানির বেশি হওয়ায় দিনের মধ্যে চারবার পানিতে ভিজে যাতায়াত করতে হয়েছে। বিভিন্ন সময় ময়লা পানির কারণে আমাদের শরীরে চুলকানিসহ চর্মরোগ দেখা দেয়।

অপর গার্মেন্টসকর্মী মো. ইউসুফ বলেন, ময়লা পানির জন্য আমাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিভিন্ন সময় পড়ে রিকশা উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। একই কথা জানালেন নারী শ্রমিক শিল্পি বেগম। তাদের সকলের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সড়কটি উচু করা হোক।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, বছরের প্রথম ভারি বৃষ্টিতে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের লোকজন কাজ করছে। প্রয়োজনে পাম্প দিয়ে সড়কের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত