আমাদের মধ্যে অনেকেই রোজ রাতে ভাত খান। বিশেষত, গরম পড়ার পর এই দলে ভিড় আরও বেড়েছে। তবে অনেকের মনেই ধারণা রয়েছে যে, রাতে ভাত খেলে নাকি ভুঁড়ির বহর বাড়তে পারে। কিন্তু এই ভাবনার পেছনে কি আদৌ কোনো যুক্তি নেই।
ভাতের বোধহয় কোনো পুষ্টিগুণ নেই অনেকেরই এটা ধারণা। তবে জানলে অবাক হবেন, এই সহজপাচ্য খাবারে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালরি। তাই শরীরে এনার্জির ঘাটতি মিটিয়ে ফেলতে চাইলে নিয়মিত ভাত খেতেই পারেন। শুধু তাই নয়, এতে কিছুটা পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়ামের মতো ভিটামিন ও খনিজেরও খোঁজ মেলে। তাই পুষ্টির ঘাটতি দূর করে সুস্থ সবল জীবন কাটাতে চাইলে নিয়মিত ভাত খেতেই হবে।
১০০ গ্রাম চালে রয়েছে মাত্র ৭৯ ক্যালরি। ভাতে কিছুটা পরিমাণে ফাইবারও রয়েছে। তাই রাতে ভাত খেলেই যে ওজন বেড়ে যাবে, এটা ভ্রান্ত ধারণা। তবে রাতে ভাত খেতে চাইলে কয়েকটি নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতেই হবে। নইলে সারা শরীরে জমবে মেদ। সেই সঙ্গে ভুঁড়িও বাড়বে!
রাতের পাতে একগাদা ভাত খাওয়া যাবে না। তবে বেশি খেলে ওজন বাড়বে। রাতের বেলায় আমাদের এনার্জির চাহিদা প্রায় থাকে না বললেই চলে। তাই এ সময় ভাতের মতো কার্ব সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে তা শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমবে। বাড়বে ওজন। তাই রাতে একান্তই ভাত খেতে হলে কম পরিমাণে খেতে হবে।
রাতের খাবার খেয়ে ফেলার আদর্শ সময় রাত ৮টা। তবে আমাদের কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকের পক্ষেই এটা সম্ভব না। তাই যখনই রাতের খাবার খাবেন তার ১ থেকে ২ ঘণ্টা জেগে থাকার পরই ঘুমাতে যাবেন। এই কাজটা করলেই ভাত থেকে প্রাপ্ত কিছুটা এনার্জি খরচ করে ফেলবে শরীর। ফলে হুট করে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে।
অনেক ডায়াবেটিস রোগী মনে করেন ভাত খেলেই বোধহয় সুগার বেড়ে যাবে। তবে বিষয়টা একবারেই তেমন নয়। বরং ভাত খেয়েও সুগার কন্ট্রোল করা সম্ভব। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা ভাত খেতে চাইলে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। তাদের বলে দেওয়া নিয়ম মেনে ভাত খান।