রিজার্ভ আরও কমে ১৮.৩ বিলিয়ন

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৬:১৯ এএম

কোনোভাবেই রিজার্ভের পতন ঠেকাতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে বড় ধাক্কা ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধ। এ বিল পরিশোধের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে রিজার্ভ এখন ২৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের বিপিএম-৬-এর হিসাবে ১৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সেখান থেকে চলতি দেনার জন্য সংরক্ষিত ৫ দশমিক শূন্য ৮ ডলার বাদ দিয়ে নেট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা আগামী জুনের জন্য আইএমএফের নির্ধারিত রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ দশমিক ৮০ বিলিয়নের চেয়ে ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি।

সূত্র জানিয়েছে, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে মার্চ-এপ্রিল ২ মাসের ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। আর রিজার্ভ ২৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে চলতি দায় বাবদ ৫ দশমিক ৮ ডলার বাদ দিয়ে এনআইআর বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত আঞ্চলিক আমদানির জন্য আকুর এই পেমেন্ট ব্যবস্থার অধীনে ৯টি সদস্য দেশেরÑ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা-আর্থিক লেনদেন করা হয়। প্রতি দুই মাস পরপর আকুর বিল পরিশোধ করতে হয়।

সূত্র জানায়, আইএমএফ ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির আওতায় জুন মাস নাগাদ এনআইআরের হিসাবে রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করেছে ১৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। সেটিও জুনের মধ্যে পূরণ করা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সবশেষে গত ৮ মে আইএমএফ এনআইআর বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।

এ বিষয় বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, রিজার্ভের নতুন লক্ষ্যমাত্রা ১৮ দশমিক ৮০ বিলিয়ন হলেও তার পূরণ নিয়ে সংশয় থাকবে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রিজার্ভ কমছে। এক মাসে তা বাড়ার তেমন কোনো শুভ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কেননা, দেশের রিজার্ভে বৈদেশিক মুদ্রা যেসব উৎস থেকে আসে ও ব্যয় হয়, এই দুটোর মধ্যে ভারসাম্য নেই। ফলে রিজার্ভ ধরে রাখা যাচ্ছিল না।

এই অর্থনীতিবিদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমেছে। তবে আমদানি নিয়ন্ত্রণের ফলে দেশের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে রিজার্ভ লক্ষ্যমাত্রা ১৪ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার এবং ডিসেম্বর শেষে তা লক্ষ্যমাত্রা ১৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত