শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শকুন সংকটে বদল সৎকাররীতি!

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ১১:৩০ এএম

জরথ্রুস্ট ধর্মে বিশ্বাসী পার্সিরা মৃতদেহকে কবরে দেয় না, চিতায় পোড়ায় না। মৃত্যুর পর তাদের লোকালয়ের বাইরে একটি উঁচু মিনারের ওপর রেখে আসে। সেখানে শকুন, বাজপাখি বা চিলের মতো মাংসাশী পাখির দল খেয়ে নেয় মৃত মানুষটির শরীর। এভাবেই প্রকৃতির মধ্যে সেই শরীর মিশে যায়। কিন্তু কয়েক কছর ধরে ভারত, পাকিস্তান ও ইরানে শকুন হ্রাস পাওয়ায় মরদেহ সৎকার করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য। এখন বাধ্য হয়েই শবদাহ ও দাফনের মতো পন্থা অবলম্বন করতে হচ্ছে তাদের।

যে মিনারে সৎকারের জন্য মরদেহ রাখা হয়, পার্সিদের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘দখমা’। আর ইংরেজিতে ‘টাওয়ার অব সাইলেন্স’। টাওয়ার অব সাইলেন্স জায়গাটি একটি ছাদবিহীন সুউচ্চ কাঠামো, নিচে একটি দরজা রয়েছে এবং ভেতরে রয়েছে কয়েকটি তাক। শুধু নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় ব্যক্তির উপস্থিতিতে এবং নানা রীতিনীতির মাধ্যমে পার্সি পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনের মৃতদেহকে ওই সব তাকে রেখে আসেন।

খোলা ছাদ দিয়ে চিল, শকুন ইত্যাদি পাখি ভেতরে প্রবেশ করে মৃতদেহ খেতে আরম্ভ করে। আর এই প্রথার মাধ্যমে মৃতদেহ পৃথিবীকে উৎসর্গ করে সেখান থেকে ফিরে যান মৃতের পরিবারের লোকজন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে শকুনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় মরদেহ সৎকার করতে পারছে না পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষেরা। করাচির বাসিন্দা হোশাং কাপাডিয়া বলেন, ‘পার্সি সমাধি প্রথার পেছনের উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবী থেকে কম নেওয়া এবং বেশি দেওয়া। কিন্তু আমরা আমাদের ঐতিহ্য আর পূরণ করতে পারছি না।’ আশি পেরোনো এই বৃদ্ধ বলেন, ‘আমরা আমাদের জীবনধারা, আমাদের সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলছি।’

সিন্ধু নদের ব-দ্বীপে অবস্থিত করাচি শহর। ২ কোটি মানুষের এই শহরে পার্সি সম্প্রদায়ের ৮০০ মানুষ বসবাস করে। শহরটিতে মাত্র দুটি সমাধি টাওয়ার অবশিষ্ট রয়েছে, তবে দুটি টাওয়ারেই সৎকার কার্যক্রম কোনো রকমে টিকে আছে।

কারণ উপমহাদেশে শকুনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। ২০০৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঞ্চলের ৯৭ শতাংশ শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে গবাদিপশুর বিষক্রিয়ায়। এই অঞ্চলে গবাদিপশুগুলোকে প্রদাহবিরোধী ডাইক্লোফেনাক খাওয়ানো হয়। এসব পশু মারা গেলে এবং মরদেহ শকুনে খেলে তাদের বিষক্রিয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত