দলীয় নির্দেশনা উপক্ষো করে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের একমাত্র ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ এবং সাংসদের আপন ছোট ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে চাচা-ভাতিজার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আর চাচা-ভাতিজার জমজমাট লড়াইটা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন পুরো জেলাবাসী। আগামী ২১ মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় এই উপজেলায় ভোট।
জানা গেছে, লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তারই আপন ছোট ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ টানা ১০ বছর ধরে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। ২০২২ সালে অনুষ্ঠেয় উপজেলার তুষভা-ার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাংসদের ছোট ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদের স্ত্রী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সাজেদা জামান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু সাংসদ তার ভাইয়ের স্ত্রীকে দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে নুর ইসলাম নামের আরেক প্রার্থীকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় পরিবারিক দ্বন্দ্বের শুরু।
এরপরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল হকের পক্ষে অবস্থান নেন মাহবুবুজ্জামান আহমেদ। ভোটের মাঠে একের পর এক বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়ে ঝড় তুলেন তিনি।
এরপর, দ্বিতীয় পর্যায়ের আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পদ ধরে রাখতে ভোটে অংশ নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রীর ছোট ভাই বর্তমান চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ। সেই চাচার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে প্রার্থী হয়েছেন ভাতিজা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ।
এছাড়াও আরও একজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনায়ন জমা দিলেও ভোটের মাঠে তার তেমন একটা গুরুত্ব নেই বলে দাবি করেছেন ভোটাররা। হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে থাকা ওই প্রার্থীর নাম তারিকুল ইসলাম।
চাচা-ভাতিজা একসঙ্গে ভোটের মাঠে থাকায় এক রকম অসহায় হয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন ভোটারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রকাশ্যে কেউ মুখ ফুটে কোনো কথাই বলতে চাচ্ছেন না। আবার অনেকেই অপেক্ষা করছেন চাচা-ভাতিজার ভোটযুদ্ধে কে জেতে আর কে হারে তা দেখার জন্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলীয় নেতাকর্মী বলেছেন, সারাটা জীবন এই পরিবারটির হাতেই ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়ে আছে। পরিবারটির বলয় থেকে সাধারণ ভোটাররাও বের হয়ে আসতে চাচ্ছেন। কিন্তু শক্তিশালী কোনো প্রার্থী ভোটযুদ্ধে না থাকায় বরাবরই পরিবারটির হাতেই ক্ষমতা চলে যাচ্ছে।
কাকিনা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর পর পর ভোট আসে। তাই পছন্দের মানুষকে তো ভোট দিতে যেতেই হবে। একই পরিবারের দুই প্রার্থীই শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় ভোট নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও আছে।
ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এমপির ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ বলেন, সুষ্ঠু ভোট হলে আমিই জয়লাভ করব। তবে সুষ্ঠু ভোট হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।
আনারস প্রতীকের প্রার্থী এমপির ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, উপজেলার ভোটাররা তরুণ নেতৃত্ব খুঁজছেন। উপজেলার উন্নয়নে আমি বিশেষ ভূমিকা রাখব।
এই উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৫২ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৭৪টি।
