গাজার উত্তরাঞ্চলীয় শহর জাবালিয়ার সরু গলিপথগুলোতে হামাসের যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র লড়াই হচ্ছে। আর দক্ষিণে রাফার চারপাশে জড়ো হওয়া ইসরায়েলি ট্যাংকগুলোতে হামাসের যোদ্ধারা হামলা চালিয়েছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাজার আটটি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে বৃহত্তম জাবালিয়ার কেন্দ্রস্থলের বাজার এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সাঁজোয়া বহর ঢুকে পড়েছে, এগিয়ে যাওয়ার পথে বুলডোজারগুলো বাড়ি, দোকানসহ যা পড়ছে সব গুঁড়িয়ে দিচ্ছে তারা। অবশ্য সেখানেও তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে ইসরায়েলি সেনাদের।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮৩ জন নিহত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে অঞ্চলটিতে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন। এছাড়া এই সময়ে জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছে কয়েকশ ফিলিস্তিনি। এই সময়ে আহত হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। হতাহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গতকাল শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে তাদের সেনারা জাবালিয়ায় ৬০ জনেরও বেশি হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং একটি ডিভিশনাল পর্যায়ের অভিযানে অস্ত্র গুদাম খুঁজে পেয়েছে। অবশ্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে হামাস। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটির সামরিক শাখা শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। এক ভিডিও বার্তায় হামাসের ইজ্জ এল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবায়দা বলেছেন, আমরা আমাদের জনগণের ওপর আগ্রাসন বন্ধ করার বিষয়ে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে শত্রুকে নিঃশেষ করতে আমরা তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।
আবু উবায়দা ঘোষণা করেন, আল-কাসাম ব্রিগেডের যোদ্ধারা গত ১০ দিনে গাজা জুড়ে ইসরায়েলের ১০০ সামরিক যান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী যে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা সব প্রকাশ করছে না বলে উল্লেখ করেন আবু উবায়দা।
কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র দাবি করেন, রাফা শহরের পূর্বাঞ্চলে এই ব্রিগেডের যোদ্ধারা শত্রুপক্ষের (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) ওপর কঠিন আঘাত হেনেছেন।
গত সপ্তাহে গাজার সর্ব দক্ষিণের শহর রাফায় অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় ইসরায়েলের হামলার মুখে বিভিন্ন স্থান থেকে বহু মানুষ পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন এখানে। শহরটিতে এখন ১৫ লাখের বেশি গৃহহীন ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন। ইতিমধ্যে রাফা ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিন অংশ দখল করে নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বাইরে থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এ ক্রসিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েল হয়ে বাকি বিশ্বে যাওয়ারও একমাত্র পথ এটি। ফলে খাবার, পানি, জ্বালানি ও ওষুধের প্রচণ্ড ঘাটতিতে ভুগছে লাখ লাখ মানুষ।
এ অবস্থায় গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চারটি আবেদন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এসব আবেদনে গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার, উপত্যকাটিতে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, সেখানে মানবিক সহায়তা সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান বন্ধে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে হামাসের হাতে জিম্মি তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। উপত্যকাটিতে হামাসের একটি সুড়ঙ্গে অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, ওই তিনজন হলেন শানি লোউক, অমিত বুসকিলা ও ইতজাক গেলেরেন্টার। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে হামাসের হামলার দিনই তাদের হত্যা করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। পরে তাদের মরদেহ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
