ডিআর কঙ্গোতে অভ্যুত্থানচেষ্টা

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ১২:৩৮ এএম

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোয় সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টা নস্যাতের দাবি করেছে সরকার। অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় তিনজন নিহত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। গতকাল রবিবার ভোরে শুরু হওয়া বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন হামলাকারী ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার সকালে দেশটির রাজধানীতে সামরিক পোশাকধারী সশস্ত্র ব্যক্তি এবং শীর্ষ রাজনীতিবিদের দেহরক্ষীদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ ঘটনাকেই সামরিক অভ্যুত্থান বলে দাবি করেছে সরকার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরা প্রায় ২০ জনের একটি দল সাবেক সেনাপ্রধানের বাড়িতে হামলা  চালায়। পরে সেখানে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নির্বাসিত রাজনীতিবিদ ক্রিশ্চিয়ান মালাঙ্গা সংশ্লিষ্ট নিউ জায়ার মুভমেন্টের সদস্য। কামেরহের মুখপাত্র মিশেল মটো মুহিমা সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, সশস্ত্র ব্যক্তিরা ফেডারেল আইনপ্রণেতা এবং ডিআর কঙ্গোর ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার প্রার্থী ভাইটাল কামেরহের কিনশাসা বাসভবনে হামলা চালায়। এ সময় রক্ষীরা তাদের বাধা দেয়। তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটাতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও আছে। ভাইটাল কামেরহে এবং তার পরিবার নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সিলভাইন একেঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, এই অভ্যুত্থানচেষ্টা ঠেকানো তাদের বাহিনীর কাছে কঠিন কিছু না। এখন পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভ্যুত্থানের চেষ্টা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের চেষ্টার পেছনে থাকা লোকদের বেশিরভাগই বিদেশি বা বিদেশে অবস্থানরত কঙ্গো নাগরিক। এ ছাড়া সন্দেহভাজনদের মধ্যে কয়েকজনের কাছে মার্কিন এবং কানাডিয়ান পাসপোর্ট রয়েছে। তবে এই লোকদের সঙ্গে স্থানীয় সেনাবাহিনী বা কিনশাসার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কোনো যোগসূত্র নেই বলে জানান তিনি।

ওই এলাকা থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সেখানে সেনাবাহিনীর ট্রাক এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সেনারা রয়েছে।

কঙ্গোয় কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। এসব বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই দিন তিনি তাদের সতর্ক করে বলেন, যদি চলমান অচলাবস্থা দূর করতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেবেন।

শনিবার পার্লামেন্টের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়, যা প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির ক্ষমতাসীন দলকে সংকটের মাঝে ফেলে।

গত বছরের ডিসেম্বরে ফেলিক্স তাসিসকেডি পুনরায় দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত