দুর্ঘটনা নাকি...

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০২:৪৯ এএম

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদুল্লাহিয়ানসহ দেশটির আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। ইরান যদিও একে দুর্ঘটনা হিসেবেই জানিয়েছে; তবুও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কোনো হামলা থেকে এ ঘটনা ঘটেছে, নাকি এর এর পেছনে রয়েছে কোনো ষড়যন্ত্র সেটিও আলোচনা হচ্ছে বিশ^ জুড়ে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের পেছনে খারাপ আবহাওয়াই ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। উড়োজাহাজ বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক হেলিকপ্টার পাইলট পল বিভারের মতে, মেঘ, ঘন কুয়াশা এবং কম তাপমাত্রা হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, খারাপ আবহাওয়ায় বিমান যেমন মেঘের ওপর দিয়ে উড়তে পারে, হেলিকপ্টার সেটা পারে না। তাকে মেঘ-কুয়াশার ভেতর দিয়েই চলতে হয়। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এক প্রতিবেদনে বলেছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের বহরে মোট তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে। পূর্ব আজারবাইজানের ডেপুটি গভর্নর ফর ডেভেলপমেন্ট আলি জাকারি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ওই বহরে তিনটি হেলিকপ্টার ছিল এবং অন্য দুটি নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে। নিরাপদে ফেরা হেলিকপ্টারে জ্বালানিমন্ত্রী আলি আকবর মেহরাবিয়ান এবং আবাসন ও পরিবহনমন্ত্রী মেহরদাদ বজরপাশ ছিলেন।

ইরানের আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, হেলিকপ্টারের ভেতরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা লোকজন জরুরি কল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, হেলিকপ্টারের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ করা হয়েছিল, তবে তিনি এর বাইরে আর কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বিবিসি বলছে, একের পর এক মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় নাজুক অবস্থা ইরানের এভিয়েশন খাতের। দেশটির বেশিরভাগ হেলিকপ্টার ১৯৭৯ সালের আগে তৈরি বা কেনা। ইরানি প্রেসিডেন্ট যে হেলিকপ্টারে চড়ে ফিরছিলেন, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি। বেল ২১২ মডেলের এই হেলিকপ্টারটিও অনেক পুরনো। নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশও কিনতে পারে না দেশটি। ফলে পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয় তাদের।

দুর্ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার জানিয়েছেন, তার দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সন্দেহ করার মতো কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তিনি পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবেন বলেও জানান।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বৈরি সম্পর্কের কারণে কারও কারও ধারণা, এই দুর্ঘটনার পেছনে তেল আবিবের হাত থাকতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণাটি উড়িয়ে দিয়েছেন। রাইসির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকারও করেছে ইসরায়েল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়।

যদিও দামেস্কে ইরানের একজন জেনারেলকে হত্যা এবং পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসহ দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে রাইসির মৃত্যুর পেছনে ইসরায়েলের হাত থাকার ধারণা জোরদার হয়েছে। তবে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানি স্বার্থের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালানোর সঙ্গে জড়িত হিসেবে বিবেচিত হলেও সংস্থাটি কখনো কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত