নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সুমন মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চরাঞ্চল পাড়াতলী ইউনিয়নের মীরেরকান্দী গ্রামে সুমন মিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবিদ হাসান রুবেলের সমর্থকরা। এতে আহত হয়ে দৌড়ে পালিয়ে স্থানীয় বাঁশগাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন সুমন মিয়া। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর পেয়ে রায়পুরার সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন রাজু হাসপাতালে ছুটে যান। সুমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত সুমন মিয়া উপজেলার চরসুবদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ২৯ মে তৃতীয় ধাপে রায়পুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। তারা হলেন সুমন মিয়া ও আবিদ হোসেন রুবেল। গতকাল সকালে সুমন চরাঞ্চল পাড়াতলী ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। দুপুর ১২টার দিকে মীরেরকান্দী গ্রামে তার গাড়িবহরের সামনে পড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রুবেল। ওই সময় তার সমর্থকরা সুমনের গাড়িবহরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সুমন ও তার লোকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। ভাঙচুর চালায় গাড়িতে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে আহত সুমন দৌড়ে চরে পালানোর চেষ্টা করেন। ১০ কিলোমিটার দৌড়ে তিনি বাঁশগাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। ওই সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল।
এদিকে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রুবেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও হামলার অভিযোগ এনে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তার সমর্থকরা। ওই সময় রুবেল দাবি করেন, সুমনের সমর্থকরা তার ওপর হামলা ও গুলি চালিয়েছে।
আরও জানা গেছে, হামলার খবর পেয়ে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আহত সুমনকে উদ্ধারের উদ্দেশে রওনা হলে রুবেলের সমর্থকরা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বাঁশগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে আহত সুমন মিয়াকে উদ্ধার করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আহত সুমনের মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। চোখ আঘাতপ্রাপ্ত ছিল। আমাদের ধারণা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’
ঘটনার সময় নিহত সুমনের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই টিটু বলেন, ‘আবিদ হাসান রুবেল ও তার সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় তারা সুমনকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরে তারা সুমনসহ আমাদের এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। হাসপাতালে আনার পথে তার মৃত্যু হয়। রুবেল রায়পুরার চিহ্নিত মাদক কারবারি। সুমনের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করা হয়।’
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) আফসান আল আলম বলেন, ‘দুই প্রার্থী ও তার সমর্থকদের হামলা সংঘর্ষে সুমন মিয়া নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। হামলার সময় তিনি প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
রায়পুরা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘একজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহতের খবর আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
