বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা

২০৫০ সালের মধ্যে মরুভূমি হবে বরেন্দ্র অঞ্চল

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ০৬:৩৯ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব ও পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার কারণে নদীর নাব্য হারিয়ে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল চর। পানির স্তর বছরে গড়ে স্থানভেদে ২ থেকে ৩ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই হার অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের  মধ্যে এই অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে মরুভূমিতে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল বুধবার আন্তজার্তিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। 

পরিজার সভাপতি মো. আবদুস সোবহান বলেন, জীববৈচিত্র্য আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানব কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমাদের বায়ু নিঃশ্বাসযোগ্য রাখার পাশাপাশি, জীববৈচিত্র্য আমাদের খাদ্য, পানি সরবরাহ, ওষুধ, পোশাক-পরিচ্ছদ, আশ্রয়স্থলের জোগান দিচ্ছে। জীববৈচিত্র্য হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বিশ্ব অর্থনীতির ৪০ শতাংশ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদার ৮০ শতাংশ আসে জৈব সম্পদ থেকে। মানবতার ভাগ্য, কল্যাণ সুদৃঢ়ভাবে জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে জড়িত। বর্তমান বিশ্বে সব প্রাণীর খাদ্য নিরাপত্তা আজ হুমকির সম্মুখীন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে সব প্রাণীর খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করা সম্ভব।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আমরা আমাদের প্রকৃতি পরিবেশ ও জলবায়ুকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছি। প্রাণ-প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা টেকসই হয় না। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী যে প্রভাব সেখানে আমাদের আরও প্রাণ ও প্রকৃতিনির্ভর পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। কিছু হলেই আমরা যেভাবে গাছ হত্যা করি, বন উজাড় করি তা অদূর ভবিষ্যতে আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করবে।

পরিজার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি হ্রাস, নদী-খাল-বিল-হাওর দখল-ভরাট-দূষণ, বনাঞ্চল দখল-হ্রাস, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা, পানি ও বায়ুদূষণের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনোভাবেই সমীচীন নয়। উন্নয়ন ও পরিবেশ একে অন্যের সম্পূরক, পরিপূরক। পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করা হলে তা টেকসই হবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত